তৃতীয় পক্ষকে যুদ্ধে না জড়াতে ইরানের হুঁশিয়ারি
Printed Edition
আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে তৃতীয় কোনো পক্ষকে যুদ্ধে জড়ানোর ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে ইরান। এই যুদ্ধে যদি তৃতীয় কোনো দেশ সরাসরি জড়িয়ে পড়ে বা প্রতিপক্ষকে সহায়তা করে, তবে তাদেরও চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। তেহরান জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের অন্তত ২০০টি শহরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরান তাদের সব সামরিক ও কৌশলগত শক্তি ব্যবহার করে পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করতে দেবে না। এই নৌপথটি বন্ধ করে দেয়াকে তারা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের একটি বড় অংশ হিসেবে দেখছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সঙ্কটে যদি তৃতীয় কোনো দেশ সরাসরি জড়িয়ে পড়ে বা প্রতিপক্ষকে সহায়তা করে, তবে তাদেরও চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ইরানের এই কঠোর অবস্থান মূলত প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি একটি আগাম সতর্কবার্তা।
অন্য দিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোকে ইরান ‘দুর্বলতার লক্ষণ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। বেইজিং সফর এবং মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের আহ্বানের প্রেক্ষাপটে তেহরান তাদের সামরিক অলঙ্কার আরো তীব্র করেছে। ইরানের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের ছক সাজাচ্ছেন এবং যেকোনো ধরনের বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তারা বদ্ধপরিকর।
এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে ইরানের হুমকি থেকে রক্ষা করতে ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর আহ্বান করেন। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে কোনো দেশই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি। বর্তমানে ওই প্রণালীর কাছে বহু দেশের জাহাজ আটকে আছে। আর এতে করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে চীনের সহায়তা চেয়েছেন ট্রাম্প। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তার আসন্ন বৈঠক নিয়ে কথা বলেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, বৈঠকের আগেই চীন হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে সহায়তা করবে।
ট্রাম্পের ভাষায়, চীন তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল সংগ্রহে এই হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে থাকে। চলতি মাসের শেষ দিকে, মার্চেই বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সাথে চীনা প্রেসিডেন্টের এই বৈঠক হওয়ার কথা। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে চীনের তরফ থেকে কোনো পদক্ষেপ দেখতে চান। তার মতে, দুই সপ্তাহ অনেক দীর্ঘ সময়। তিনি আরো জানান, এই সফর পিছিয়েও যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের কাছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান এমন সময়ে এলো, যখন তেহরানের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় বেইজিংয়ের হয়তো নিজেদের তেলবাহী জাহাজ পার করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো জোটের প্রয়োজন নাও হতে পারে। ভারতও জানিয়েছে, তেহরানের সাথে এক সমঝোতার মাধ্যমে তাদের দু’টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য বন্ধ আর বাকি বিশ্বের সবার জন্য উন্মুক্ত। শনিবার মার্কিন ক্যাবল নিউজ চ্যানেল এমএস নাউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি জানিয়েছেন, অন্য দেশের জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রণালিটি পার হতে কোনো বাধা নেই। তবে ‘নিরাপত্তা উদ্বেগে’ অনেকেই তা করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে ইরানের কিছু করার নেই।” তিনি যোগ করেন, “এখন অনেক ট্যাঙ্কার ও জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে।” ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় কথিত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর উদাহরণ হিসেবে একটি তালিকা দিয়েছেন, তাতে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনের নাম আছে। এসব দেশ হরমুজ প্রণালীতে ‘যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে’ বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে কোনো দেশই এ পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।