সাংবাদিকদের সম্মানে জামায়াতের ইফতার
সংবাদপত্র ঠিক থাকলে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না : বিরোধীদলীয় নেতা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে বাকি তিনটি অঙ্গ সঠিকভাবে চলতে বাধ্য হয়। কিন্তু গণমাধ্যম যদি ভিন্নদিকে চলে যায় তাহলে অন্য তিনটি অঙ্গও ব্যর্থ হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, বিগত সময়ে গণমাধ্যম জনগণের কথা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেনি। বর্তমানেও তার ধারা কিছুটা রয়ে গেছে। আমরা আশা করব তারা এ থেকে বের হয়ে আসবেন। সংবাদপত্র যদি সঠিকপথে চলে তাহলে দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না। কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে মাথানত করবে না আশা করি।
গতকাল ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সাংবাদিকরা অত্যাচার- নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীকে কারাবরণ করে শেষে মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়েছেন। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। এভাবে সাংবাদিক হামলা-মামলা ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করে ফেলা হয়েছিল। মূলত উদ্দেশ্য ছিল যারা সঠিক সাংবাদিকতা করে তাদের কণ্ঠ স্তব্দ করে দেয়া। তাতে তারা সফলও হয়েছিল।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সিয়াম সাধনার মাস প্রায় শেষ হতে চলেছে। এ মাসেই কুরআন নাজিল হয়েছিল। আমরা যেন কুরআনের শিক্ষাকে দেশ ও সমাজে কাজে লাগাতে পারি সে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশের গণমাধ্যমের হাত বদল হয়েছে মাত্র। চরিত্রের বদল হয়নি। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা আগের মতোই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে দেশের জন্য এ লড়াই অব্যাহত রাখবে। এ ব্যাপারে আমরা কোনো ভয় পাই না। তিনি ইরানের যুদ্ধ প্রসঙ্গে বলেন, এ যুদ্ধ আমাদের দেশেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সামনে আরো বেশি হতে পারে। এ জন্য আমাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। ইরানের প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।
নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন থেকে জনগণের জন্য রাজনীতি করছে। এখন তারা প্রধান বিরোধী দলে রয়েছে। জনগণের প্রতি তাদের যে কমিটমেন্ট রয়েছে তারা যেন সেটি অব্যাহত রাখে আমি সেটি প্রত্যাশা করি। একই সাথে দেশের গণতন্ত্রের উন্নয়নে সংসদ ও সংসদের বাইরে তারা যেন সরকারি দলের গঠনমূলক সমালোচনা অব্যাহত রাখেন সে প্রত্যাশা করছি। সভাপতির বক্তৃতায় জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, সরকারি দল বিএনপি এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। জামায়াত জোটের এমপিরা দু’টি শপথই নিয়েছেন। বিএনপি যদি এ শপথ না নেয় তাহলে তা জুলাই আন্দোলন ও শহীদদের সাথে বেঈমানী হবে। তারা আগামীদিনের সংসদ অধিবেশনে এ শপথ নিয়ে জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করবে বলে আমরা এখনো আশাবাদী।
ইফতার মাহফিলে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, সাবেক সভাপতি ও দেশ রূপান্তরের সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সংগ্রাম সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, বর্তমান মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, সরদার ফরিদ আহমদ, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, সাবেক সম্পাদক মোস্তাফা কামাল মজুমদার, ভোরের ডাক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী পরিচালক ফাহিমা বাহাউদ্দীন, বাংলা নিউজ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকামেইল নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, ক্রাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, সাব এডিটর কাউন্সিলের সভাপতি মুক্তাদির অনিক, সাধারণ সম্পাদক জওহার ইকবাল খান, রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরামের (আরআরএফ) সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।