মিঠাপুকুরে নদ-নদী থেকে বালু উত্তোলন হুমকিতে ঘরবাড়ি
Printed Edition
মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভেকু মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। দেদার বালু ব্যবসায় নদীপাড়ের ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও পাকা সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে নদীভাঙনে আরো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের পলিপাড়া, আটপুনিয়া, তরফশাদী ও হাছিয়া গ্রামসংলগ্ন যমুনেশ্বরী নদী এবং পায়রাবন্দ ইউনিয়নের ঘাঘট নদী থেকে অবিরাম বালু উত্তোলন চলছে। এসব বালু ট্রাকে করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বাইরে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত বালুবোঝাই ট্রাক চলাচল করায় ধুলাবালু ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চাপে সরকারের কোটি টাকার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উঁচা বালুয়া গ্রামের শওকাত মেম্বার ও পায়রাবন্দ গ্রামের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছেন। এ ছাড়া আটপুনিয়া গ্রামের কয়েকজন ভেকু মেশিন দিয়ে নদীতীর ও ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন পলাশ মিয়া বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলন হচ্ছে, সবাই বন্ধ করলে তিনিও বন্ধ করবেন। অন্যদিকে হাছিয়া এলাকায় বালু উত্তোলনকারী এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি অফিসের অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন।
তবে আশপাশের জমির মালিকরা অভিযোগ করেছেন, নদী ও জমির চারপাশ থেকে বালু-মাটি কেটে নেয়ায় প্রতি বছর তাদের জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। বসতবাড়িও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের নীরবতায় বালু ব্যবসায়ীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং মাটি কেটে পরিবেশ বিপন্ন করার মতো কাজ কাউকে করতে দেয়া হবে না। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতীতে অভিযান চালিয়ে সাময়িকভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হলেও পরে তা আবার শুরু হয়। তাদের দাবি, কার্যকর নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।