বিবিএস মাইক্রোডাটা কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী সাকী
বিগত দিনের মতো তথ্যে কারচুপি বর্তমান সরকার করবে না
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
বিগত সময়ের মতো দেশে আর কোনো তথ্য কারচুপি বা ম্যানিপুলেশন (কারসাজি) হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী। তিনি বলেছেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তথ্য-উপাত্তের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল ছিল না। ফলে দেশের উপাত্ত নিয়ে মানুষের মাঝে একটি বড় ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই অনাস্থা দূর করে জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং মানুষের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর।’
সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নবপ্রতিষ্ঠিত ‘মাইক্রোডাটা অ্যানালাইসিস ল্যাব’ বিষয়ে অংশীজনদের অবহিতকরণ ও মতামত গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের হারসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চুলচেরা পর্যালোচনা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই তথ্য-উপাত্ত উন্মুক্ত করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় কাজ করছে। দেশের সঠিক উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া অপরিহার্য।
তথ্যের গরমিল নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হিসাব-নিকাশের ভিত্তি নিয়েই এখন সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আসলে দারিদ্র্যের হার কত, কত মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছেন- তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সামাজিক সুরক্ষার কর্মসূচিগুলো মানুষের জীবনে আদতেই কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, তা পরিমাপ করতে গেলেও জনসংখ্যার আর্থিক অবস্থার সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ জানা জরুরি। কিন্তু আমাদের ইকোনমিক সেন্সাস (অর্থনৈতিক শুমারি) ও পপুলেশন সেন্সাস (জনশুমারি) নিয়ে অতীতে অনেক প্রশ্ন উঠেছে।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বিবিএস নিয়মিত বিভিন্ন শুমারি ও জরিপ পরিচালনা করে। এখন থেকে এসব শুমারি ও জরিপের রিপোর্টের পাশাপাশি গবেষক ও ব্যবহারকারীদের জন্য মাইক্রোডাটা (শুমারির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ এবং জরিপের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ) উন্মুক্ত করা হবে।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো: ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহন কিম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক কবির উদ্দিন আহমেদ।