আলপির হ্যাটট্রিকে ফাইনালে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ৪-০ নেপাল (আলপি ৩, প্রতীমা মুণ্ডা)
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফাইনালে যেতে হলে নেপালের সাথে ড্র করলেই চলত। অন্য দিকে ৭ ফেব্রুয়ারি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে নেপালের বড় জয় দরকার ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ৮-০ গোলের জয় ভারতের ফাইনালে খেলার রাস্তা প্রশস্ত করেছিল। নেপাল আগের ম্যাচে ভুটানকে ২-১ গোলে হারায়। যদিও প্রথম ম্যাচে তাদের ০-১ গোলে হার ছিল ভারতের বিপক্ষে। একে তো পোখরারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের উঁচু-নিচু মাঠ, তার উপর নেপাল অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল। তাই কাল বাংলাদেশ দলের একাদশে বড়সড় পরিবর্তন আনেন কোচ পিটার জেমস বাটলার। ৯ ফুটবলারকে বদল। পূর্ণিমা মারমা, মীরা খাতুন, বন্যা খাতুন, মৌমিতা খাতুনরা ৩ মিনিটেই বাংলাদেশকে লিড এনে দেন। কিন্তু এরপর নেপাল যেভাবে চেপে ধরেছিল তাতে যেকোনো সময়ই ম্যাচে সমতা আসত। তাই অবস্থা বেগতিক দেখে কোচ পিটার বাটলার ৩৫ মিনিটে মীরা খাতুনকে তুলে মাঠে নামান আলপি আক্তারকে। দারুণ ফর্মে থাকা এই স্ট্রাইকার দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান। বিরতির আগে ও পরে মিলে করলেন তিন গোল। আসরে তার দ্বিতীয় এই হ্যাটট্রিকের সুবাদেই নেপালের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় লাল-সবুজদের। ফলে টানা তিন জয়ে লিগ পর্বের সেরা হয়েই ফাইনালে উঠল অর্পিতা বিশ্বাসরা। এতে ফাইনালে তারা পাচ্ছে ৬ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া ভারতকে।
এই ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়া হয় জয়নব বিবি রিতাকে। মূল একাদশে ছিলেন আগের ম্যাচের মিডফিল্ডার মামনি চাকমা ও গোলরক্ষক ইয়ারজার বেগম। সেট পিচের জন্য নাম করা মামনি। ৩ মিনিটে তার ম্যাচে পাওয়া প্রথম কর্নার থেকেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে যাওয়া। তার সেই শটে মাথা লাগিয়ে জাতীয় দলে প্রথম গোলের দেখা পেলেন ডিফেন্ডার প্রতীমা মুণ্ডা। শুরুতে এই গোল পাওয়ার পর বাংলাদেশ দলের ব্যবধান বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু পিছিয়ে পড়ার পর নেপাল চড়াও হয় জয়ের জন্য। মিডফিল্ডে দখল নিয়ে একের পর এক বাংলাদেশ সীমানায় হানা দিতে থাকে। অবশ্য লাল-সবুজ ডিফেন্ডার এবং গোলরক্ষক ইয়ারজান মিলে পোস্টকে অক্ষত রাখতে থাকেন। অবশ্য বিপদ বুঝেই কোচ বাটলার মাঠে নামান আলপি ও শান্তি মার্ডিকে। এই আলপিই প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বক্সের বাইরে মামনি ফ্রি-কিকের ডামি করলে শট নেন আলপি। সেই বলই নেপালি কিপারের মাথার উপর দিয়ে জালে যায়।
এই স্কোর লাইনে প্রথমার্ধ শেষ হলে বিরতির পর আর দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। তখন মুনকি আক্তার, তৃষ্ণা রানীরা মাঠে এলে মাঝ মাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের দখলে আসে। ৬৮ মিনিটে আলপির দ্বিতীয় গোল। শান্তি মার্ডির লব থেকে বলের দখন নেন তিনি। এরপর ডান পায়ের টোকায় পরাস্ত করেন আগুয়ান নেপালের গোলরক্ষক ঝর্ণা ধুমরাকোতিকে। নেপাল তখন লড়াইয়ের বাইরে। ৮২ মিনিটে হ্যাটট্রিক খর্বাকৃতির স্ট্রাইকার আলপি আক্তারের। বাংলাদেশের একটি আক্রমণ ক্লিয়ার করতে গিয়ে পোস্টের সামনে গোল লাইনের উপর বল ফেলেন নেপালের এক ডিফেন্ডার। সামনে দাঁড়ানো আলপি ডান পায়ের ভলিতে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। ৯৩ মিনিটে তার ফ্রি-কিক ক্রস বারে লাগায় নিজের চতুর্থ গোল পাওয়া হয়নি।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মেয়ে আলপির তিন ম্যাচেই গোল পেলেন। তার প্রথম হ্যাটট্রিক ছিল ভুটানের বিপক্ষে। এরপর ভারতের বিপক্ষে এক গোল। সাত গোল দিয়ে গোলদাতার শীর্ষে তিনি।