রয়টার্সকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান
জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি, জোট সরকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
Printed Edition
বাসস
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দল আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে- এ বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী। একই সাথে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট বা জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে সরকার গঠন করব? তা হলে বিরোধী দলে কে থাকবে?’ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘তাদের আসন সংখ্যা কত হবে আমি জানি না। তবে যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।’
রয়টার্স স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসাথে বাংলাদেশ শাসন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দলের অবস্থানে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের বৃহৎ তৈরি পোশাকশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জামায়াত সম্প্রতি জাতীয় স্থিতিশীলতা ফেরাতে একটি ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব পুনর্নবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পরিস্থিতির পটভূমি তুলে ধরে রয়টার্স জানায়, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। ছাত্র-যুব নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
বিএনপির সহযোগীরা জানিয়েছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের বিষয়ে দলটি আত্মবিশ্বাসী। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, বাকি আসনে তাদের মিত্ররা লড়ছে।
তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে রাজি হননি তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন আমরা পাব।’
বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির বিজয়ের পূর্বাভাস দেয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জোটে ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে উঠে আসা একটি ‘জেন জেড’ রাজনৈতিক দলও রয়েছে।
বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক : রয়টার্স মন্তব্য করে, গত বছর ঢাকার একটি আদালত দমন-পীড়নে ভূমিকার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে তাকে আশ্রয় দেয়ার ভারতের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। এতে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে চীনের বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন অংশীদার, যারা প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশে বিনিয়োগ আনা এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার।’
আরো যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমার জনগণ ও দেশের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সাথেই আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের সাথে নয়।’
নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা থাকতে পারবে : বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং উচ্চ দারিদ্র্যহারসম্পন্ন দেশ বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবেশী বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, যেখানে তাদের বহিরাগত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর জানিয়েছিল, নানা আর্থিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের কারণে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, তিনিও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পক্ষে, তবে তা অবশ্যই নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে হতে হবে।
তার ভাষায়, ‘আমরা চেষ্টা করব যেন এই মানুষগুলো তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। তবে সেখানে পরিস্থিতি নিরাপদ হতে হবে। যতদিন নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, ততদিন তারা এখানে থাকতে পারবে।’