বারান্দায় শিকলবন্দী কাইয়ুম অসহায় পরিবার
Printed Edition
আসহাবুজ্জামান শাওন কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
দুই হাত আর এক পা শিকল দিয়ে বাঁধা, যার শেষ প্রান্তটি শক্ত করে আটকানো ঘরের খুঁটির সাথে। জরাজীর্ণ মাটির ঘরের এক কোণে চাটাইয়ের ওপর শুয়ে আছেন ৪৫ বছর বয়সী কাইয়ুম মিয়া। মলিন পোশাক আর শিকলের ঘর্ষণে হাত-পায়ে পড়া কালো দাগগুলো বলে দিচ্ছে, তার জীবন এখন কতটা বিষাদময়। কখনো তিনি নিস্তব্ধ হয়ে থাকেন, আবার কখনো গেয়ে ওঠেন মারেফতি গান। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাউয়ারগলা গ্রামে গেলেই চোখে পড়ে কাইয়ুমের এই করুণ দৃশ্য।
পেশায় একসময় সচল মানুষটি গত তিন মাস ধরে এভাবেই বন্দী। পরিবারের সদস্যরা জানান, কাইয়ুমের মানসিক ভারসাম্যহীনতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাকে মুক্ত রাখলে ঘরের আসবাবপত্র ও দেয়াল ভাঙচুর করেন। বাধ্য হয়েই নিরাপত্তার খাতিরে তাকে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। কাইয়ুমের স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, খুব কষ্টে আছি। স্বামীর চিকিৎসা তো দূরের কথা, ঠিকমতো দুই বেলা খাওয়াতেও পারি না।
এই পরিবারের অভাব যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে সন্তানদের জীবনের ওপর। বড় মেয়ে জান্নাতুন আক্তার এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী থাকলেও অসুস্থ বাবার দেখাশোনা করতে গিয়ে পরীক্ষায় বসতে পারেননি। বড় ছেলে আবুল মিয়ার পড়াশোনা বন্ধ হয়েছে অষ্টম শ্রেণীতেই। ছোট দুই সন্তান সোহেল ও জয়তুনের পড়াশোনা চললেও অভাবের ছায়ায় তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
আর্থিক সঙ্কটে কাইয়ুমের চিকিৎসা থমকে গেছে। তিন মাস আগে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে নেয়া হলেও টাকার অভাবে ওষুধ কেনা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে জরাজীর্ণ মাটির ঘরে বৃষ্টিতে ভিজে আর রোদে পুড়ে দিন কাটছে এই মানুষটির। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের দাবি, সরকার বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো কাইয়ুম ফিরে পেতে পারেন স্বাভাবিক জীবন, রক্ষা পেতে পারে একটি অসহায় পরিবার।