বিআইডব্লিউটিএর নামে চাঁদাবাজি

Printed Edition

আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট

  • সিলেট
  • সুনামগঞ্জ
  • নৌপথ

সিলেট-সুনামগঞ্জ নৌপথে চাঁদাবাজি, হামলা ও শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বাল্কহেড শ্রমিকরা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কর্মবিরতিতে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

গত মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন, গোয়াইনঘাট শাখার নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চল থেকে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন নৌবন্দরে বালু, পাথর ও কয়লা পরিবহনে নিয়োজিত শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ১৩ জুন গোয়াইনঘাটে পানি বৃদ্ধির সময় বালু আনতে গেলে একদল ব্যক্তি শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা আলোচনা শুরু করলে পরদিন আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে একদল লোক ট্রলারযোগে এসে লাঠিসোটা নিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় অভিযোগ জানাতে গোয়াইনঘাট থানায় গেলেও পুলিশ সহযোগিতা করেনি। পরে ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর আইনগত সহায়তা পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ১৫ জুন রাতে একটি চক্র পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতি বাল্কহেড থেকে পাঁচ হাজার টাকা, ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে দুই হাজার টাকা এবং অন্যান্য খাতে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে বলে অভিযোগ করা হয়। গোয়াইনঘাট থেকে ছাতক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিআইডব্লিউটিএর নামে চলন্ত নৌযান থেকেও অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেন শ্রমিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, সালুটিকর ও বাদাঘাট এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে শ্রমিকদের মারধর করে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। একই বাল্কহেড থেকে একাধিকবার অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অনিয়ম ও বেআইনি বলেও উল্লেখ করেন তারা।

শ্রমিকদের দাবি, প্রশাসন ও নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সংস্থার নাম ব্যবহার করে সঙ্ঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৪ জুন নৌ পুলিশ সিলেট অঞ্চল ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, গোয়াইনঘাটে অস্থায়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, লোড পয়েন্টগুলোতে রাতের বেলায় নৌ পুলিশের টহল জোরদার, সব ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ, সরকারি নিয়মের বাইরে বিআইডব্লিউটিএর নামে অর্থ আদায় বন্ধ এবং নৌপথে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, ইজারাকৃত কিছু এলাকায় সংঘটিত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে কয়েকজন ইজারাদারের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন এবং গোয়াইনঘাটকে নৌবাণিজ্যের জন্য অনিরাপদ এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবিও তুলবেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো: সুমন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা মো: রাসেল, মো: সোহেল, শেহিন, মো: জামাল ও মো: ফারুকসহ অন্যরা।