ছো ট প র্দা য় ২ ০ ২ ৫
গল্প আর আবেগের বৈচিত্র্যে মুগ্ধ দর্শক
Printed Edition
সাকিবুল হাসান
২০২৫ সালের নাট্যজগত ছিল গল্প ও নির্মাণের এক অনন্য বৈচিত্র্যে ভরপুর। এ বছর মুক্তিপ্রাপ্ত নাটকগুলোতে প্রেম, আবেগ, হাস্যরস আর রহস্যের এমন এক সুনিপুণ মিশেল ছিল যা সাধারণ দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। বিশেষ করে ঈদ, ভ্যালেন্টাইন ডে এবং বিভিন্ন বিশেষ দিবসে মুক্তি পাওয়া কাজগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি গল্পে দর্শক খুঁজে পেয়েছেন নতুন ভাবনা আর অনুভূতির ছোঁয়া, যা চরিত্রগুলোকে পর্দার আড়ালে থেকেও রক্ত-মাংসের মানুষের মতো জীবন্ত করে তুলেছে। এ বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আলোচিত নির্মাণ ছিল মাশরিকুল আলমের ‘ঘ্রাণ’। জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, নাজনীন নাহার নীহা ও রোজী সিদ্দিকী অভিনীত এই নাটকটি মূলত মায়ের প্রতি সন্তানের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও দায়বোধের এক হৃদয়স্পর্শী দলিল। মিরপুরের বেনারসি পল্লীতে শাড়ি কিনতে গিয়ে অপূর্ব যখন এক অজানা স্মৃতির তাড়নায় পড়ে, সেখান থেকেই গল্পের মূল আবেগ দানা বাঁধে। নিজের প্রেমিকার খালা অর্থাৎ- অন্যের জন্মদিন মনে রাখলেও নিজের গর্ভধারিণী মায়ের জন্মদিন না জানার অনুশোচনা নাটকটিকে এক উচ্চমাত্রায় নিয়ে গেছে। মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহে ৭১ লাখেরও বেশি দর্শক নাটকটি দেখে এর গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন। জাকারিয়া শৌখিনের পরিচালনায় এ বছর দু’টি ভিন্নধর্মী কাজ দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল। প্রথমটি ‘মেঘ বালিকা’, যেখানে অপূর্ব ও নীহা জুটির রসায়ন ছিল মুগ্ধকর। পারিবারিক বন্ধুর প্রতি এক তরুণীর গভীর প্রেম এবং সেই প্রেমের কারণে পারিবারিক সম্পর্কে যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়, তা অত্যন্ত চমৎকারভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। নাটকটি প্রথম তিন দিনেই ৪০ লাখ ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে। শৌখিনের দ্বিতীয় আলোচিত নাটক ‘প্রিয় প্রজাপতি’ ছিল তাসনিয়া ফারিন ও অপূর্বর এক স্নিগ্ধ প্রেমের গল্প। অফিসগামী বাস আর সাধারণ কর্মস্থলের চেনা পরিবেশে দুই সহকর্মীর অব্যক্ত ভালোবাসা ও খুনসুটি দর্শকদের শৈশব বা কৈশোরের সাধারণ প্রেমের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
যৌথ পরিবারের আবেগ আর বাস্তব জীবনযুদ্ধের গল্প নিয়ে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ নির্মাণ করেন ‘তোমাদের গল্প’। ফারহান আহমেদ জোভান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী অভিনীত এই নাটকটি দর্শককে যেমন কাঁদিয়েছে, তেমনি সম্পর্কের মূল্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। বিশেষ করে তটিনীর সাবলীল অভিনয় দেখে অনেক দর্শক তাকে কিংবদন্তি শাবনূরের সাথে তুলনা করেছেন।
অন্যদিকে, রহস্য আর ভয়ের আবহে বছরজুড়ে শিহরণ জাগিয়েছে ভিকি জাহেদের ‘খোয়াবনামা’। তৌসিফ মাহবুব ও তানজিন তিশা অভিনীত এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারটি মৃত্যুর রহস্য ও আধ্যাত্মিক ভয়ের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ছোট পর্দায়। বছরের শেষার্ধেও জনপ্রিয়তার এই জোয়ার অব্যাহত ছিল। ইয়াশ রোহান ও মালাইকা চৌধুরীর ‘ক্ষতিপূরণ’ নাটকটি প্রেম ও না-পাওয়ার তীব্র বেদনাকে দারুণভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছে। আবার হাস্যরস আর রোমান্সের মিশেলে নির্মিত ‘উইশ কার্ড’ দর্শকদের দিয়েছে নিখাদ পারিবারিক বিনোদন। এছাড়া ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত ‘মন দুয়ারী’ নাটকটি ছিল সম্পর্কের সূক্ষ্ম অনুভূতির এক দারুণ প্রতিফলন। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের ছোট পর্দা ছিল মেধা ও মননের এক সার্থক মেলবন্ধন, যা বাংলা নাটকের হারানো গৌরবকে আরো একবার ফিরিয়ে এনেছে।