৪ আগস্ট ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা সরেজমিন যাচাই করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা আগামী ৪ আগস্ট ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) যা ‘আয়নাঘর’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত, পরিদর্শন করবেন। এর আগে আগামী ১ আগস্ট তারা র্যাব-১ কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। রুয়ান্ডা ও যুগোস্লাভিয়ার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নজির এবং দেশীয় ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৫৩৯-বি ধারার আইনি ক্ষমতাবলে বিচারকদের এই সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য প্রসিকিউশনের পক্ষে আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরিদর্শনের পর বিচারকরা একটি মেমোরেন্ডাম বা স্মারক প্রস্তুত করবেন, যা মামলার অফিসিয়াল রেকর্ড ও বিচারের সহায়ক নথি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।

গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদলের কাছ থেকে ৭ দফা দাবিতে দেয়া স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম।

ব্রিফিংয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক তদন্তের নানা নজির ও রোডম্যাপ তুলে ধরেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, ১ ও ৪ আগস্ট বিচারকদের এই পরিদর্শনের পরপরই আগামী ৬, ৭ ও ৮ আগস্ট প্রসিকিউশন টিম খুলনার সুন্দরবনসংলগ্ন গভীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত বহুল আলোচিত ‘গুমচর’ পরিদর্শনে যাবে। পাশাপাশি আগামী ২ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে এবং সেখানে থাকা গণকবর সরেজমিন পরিদর্শন করা হবে। এর আগে নরসিংদীতে শতাধিক ভিকটিমের উপস্থিতিতে গণশুনানি করা হয়েছে এবং একই অপরাধে দুবার বিচার (ডাবল জিওপার্ডি) বা তদন্তে সঙ্ঘাত এড়াতে প্রয়োজনীয় আইনি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জুলাই গণহত্যা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আশা প্রকাশ করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মামলার তদন্ত আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০৯টি অভিযোগকে একত্র ও পুনর্গঠন করে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে পুরো দেশের ঘটনার চিত্র চলে এসেছে। ইতোমধ্যে শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ ১২টি স্পর্শকাতর বিষয়ের তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে এবং আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) শাপলা চত্বর ট্র্যাজেডির বিশাল পরিসরের ফরমাল চার্জ আদালতে দাখিল করা হবে।

বিচারের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এ পর্যন্ত ৩টি মামলার রায় হয়েছে (যার মধ্যে রয়েছে আবু সাঈদ হত্যা ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুর মামলা)। বর্তমানে ওবায়দুল কাদের, মাহবুবুল আলম হানিফ ও শহীদ জাবিরের মামলাসহ মোট চারটি মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যেই অন্তত ৩ থেকে ৪টি মামলার রায় প্রকাশিত হবে।

প্রসিকিউশন টিমের ধারাবাহিকতা ও ঐক্যের বিষয়টি উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত সরকারের সময় গঠিত টিম যেভাবে কাজ করেছিল, নেতৃত্বের পরিবর্তন ছাড়া মূল টিম অপরিবর্তিত থেকেই একইভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্মারকলিপি প্রদানকারী ১১ দলীয় জোটের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন, জুলাই গণহত্যা, গুম-খুন ও ১-১১ থেকে শুরু করে বিগত ১৬ বছরের প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে প্রসিকিউশন শতভাগ নিরপেক্ষ ও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।