জ্বালানি সঙ্কটে বিপর্যস্ত উপকূলীয় মৎস্যপল্লী
Printed Edition
রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কটে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৎস্য খাত প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় জেলেরা নদী ও সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। ফলে এক দিকে যেমন মাছ আহরণ কমে গেছে, অন্য দিকে স্থবির হয়ে পড়েছে উপকূলীয় মৎস্যপল্লী ও ঘাটগুলোর কার্যক্রম।
এক সময় প্রতিদিন শত শত ট্রলার মাছ নিয়ে ঘাটে ভিড় জমাতো। সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। অধিকাংশ ট্রলার ঘাটে নোঙর করে পড়ে আছে। জ্বালানি সঙ্কটের কারণে অনেক জেলে বাজার-সদাই করেও সাগরে যেতে না পেরে ফিরে আসছেন। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি হতাশা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, জ্বালানি সঙ্কটে সাগরগামী ট্রলার ও ছোট ফিশিং বোটের মাধ্যমে মাছ আহরণ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এতে মৎস্য ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বরফকলগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়ছেন।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮০৯ জন। এ ছাড়া আরো প্রায় তিন হাজার অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এসব জেলের জীবিকা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
জেলেরা জানান, গভীর সমুদ্রে এক সপ্তাহ মাছ ধরতে যেতে একটি ট্রলারে এক হাজার লিটার থেকে এক হাজার ২০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে তারা সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৩৫০ লিটার জ্বালানি পাচ্ছেন, যা দিয়ে দুই দিনের বেশি সাগরে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পর্যাপ্ত মাছ আহরণও সম্ভব হচ্ছে না। এতে ট্রলার মালিকদের লোকসান বাড়ছে এবং মাঝিমাল্লারা বেকার সময় পার করছেন।
এ দিকে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হচ্ছে ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞার আগে জ্বালানি সঙ্কট কাটেনি বলে জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বৈশাখকে কেন্দ্র করে তাদের বকেয়া দেনা-পাওনাও বেড়েছে।
উপজেলায় তেলের পাম্প না থাকায় জ্বালানি সংগ্রহে অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জেলেদের। দূরবর্তী এলাকা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করেও চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। কিছু নৌযান সীমিত জ্বালানি নিয়ে সাগরে গেলেও অল্প পরিমাণ মাছ নিয়ে ফিরে আসছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন নবি বলেন, জ্বালানি সঙ্কটে মাছ আহরণ ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সঙ্কট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।