আনসার সদস্য আবুল হোসেনের ড্রোন উদ্ভাবন

পৃষ্ঠপোষকতার আশ্বাস

Printed Edition
artho-4
আনসার সদস্য আবুল হোসেনের ড্রোন উদ্ভাবন

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

নিজ মেধা, শ্রম ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার সদস্য আবুল হোসেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রোন বিমান নির্মাণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, আনসার বাহিনীর সদস্যরা শুধু নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায়ও দক্ষ।

বাগেরহাট জেলাজুড়ে প্রশংসিত এই উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ তাকে বাহিনীর সদর দফতরে আমন্ত্রণ জানান।

অনুষ্ঠানে আবুল হোসেন তার উদ্ভাবিত ড্রোন বিমানটি সফলভাবে আকাশে উড্ডয়ন করে প্রদর্শন করেন। এ সময় মহাপরিচালক তার উদ্ভাবনী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তিগত কর্মকাণ্ডে বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার আশ্বাস দেন।

মহাপরিচালক তার বক্তব্যে বলেন, একজন আনসার সদস্যের এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাহিনীর সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাহিনীর সদস্যদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে সুসংগঠিত কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে যুক্ত আবুল হোসেন এ পর্যন্ত মোট ২৭টি ড্রোন বিমান নির্মাণ করেছেন। প্রতিটি ড্রোনই দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে উড্ডয়নে সক্ষম, যা তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা, অধ্যবসায় ও ধারাবাহিক গবেষণার প্রমাণ বহন করে।

দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার এই নিরলস উদ্ভাবনী প্রয়াস বাহিনীর অন্য সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো উন্নত প্রযুক্তি সংযোজন ও আধুনিক ড্রোন নির্মাণের মাধ্যমে তিনি বাহিনী ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাহিনীর প্রান্তিক পর্যায়ের সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ড্রোনের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিগগিরই বিস্তারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন বাহিনী প্রধান।