তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নজিরবিহীন আয়োজন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • ঢাবি, সাভার ও জিয়ার কবরস্থানে থাকবে সেনা এসএসএফ ও বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা

  • মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি

দেড় যুগের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশাল জন¯্রােতের মধ্যে তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাজুড়ে অভূতপূর্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল থেকেই সেনাবাহিনী, সিএসএফ, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশ এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে রাখে। অপরদিকে বিমানবন্দর সড়কেও ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরকাড়া উপস্থিতি। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট হয়ে, গুলশান পর্যন্ত আশপাশ এলাকায় ছিল নি-িদ্র নিরাপত্তাবলয়। পুলিশ সূত্র জানায়, ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে চার হাজার ৬৪৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সমন্বয়ে এক নি-িদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।

আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরস্থানের পাশে সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করার কথা রয়েছে। এ ছাড়াও শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে ও সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিশৌধে যাওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। তিনি যেখানে যাবেন সেখানেই নিরাপত্তাবলয় থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা ও নাশকতারোধে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখনো মাঠে কাজ করছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো পরিকল্পনাকে ৯টি সুনির্দিষ্ট সেক্টরে ভাগ করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন সেনাবাহিনী, সিএসএফ (চেয়ারপারসনের নিরাপত্তাকর্মী) র‌্যাব, বিজিবি এবং বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারেক রহমানের জন্য বিশেষ এস্কর্ট ব্যবস্থা ছিল। বিমানবন্দরে একজন উপপুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে ১৫৫ জন পুলিশ সদস্য এবং দেড় শতাধিক সেনাবাহিনীর সদস্য এস্কর্ট প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এপিবিএনের এক হাজার ৫৬ জন, ডিবি পুলিশের ১০০ জন, এবং এটিইউ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া নারী পুলিশ সদস্য এবং ডগ স্কোয়াডও সক্রিয় রয়েছে।

ডিএমপির কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়ি এবং অনুমোদিত নির্দিষ্ট কয়েকটি গাড়ি ছাড়া আর কোনো যানবাহন এই পথে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

বিএনপির সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড় সামলাতে এবং অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ গোয়েন্দা শাখাগুলো বিশেষ নজরদারি রাখে। গুলশান ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে রুফটপ নিরাপত্তা বা ভবনের ছাদেও বিশেষ প্রহরা বসানো হয়।

রেড-ইয়েলো-হোয়াইট জোনে নিরাপত্তা ছক অনুযায়ী এলাকা তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। রেড জোনে প্রবেশের জন্য বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড বাধ্যতামূলক। ইয়েলো জোনেও আলাদা পরিচয়পত্র প্রয়োজন। হোয়াইট জোনে সাধারণ মানুষ চলাচল করেছেন।

এদিকে গতকাল সরকারি ছুটি উপলক্ষে রাজধানী সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। গতকাল দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়- সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, পল্টন, শাহবাগ, ফার্মগেট, মগবাজার, মিরপুর সড়ক, সাতমসজিদ রোডে গণপরিবহন তেমন একটা চোখে পড়েনি। মেট্রোরেলেও যাত্রী ছিল অনেক কম। পুলিশ বলছে, টানা তিন দিনের ছুটির কারণে রাজধানী থেকে প্রচুর মানুষ গ্রামে এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে গেছেন।

মেট্রোরেলের শাহবাগে দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্য শুভাসিশ জানান, গতকাল সকাল থেকেই মেট্রোরেলে যাত্রী অনেক কম ছিল। দুপুরের দিকে দুই-একজন বেশি থাকলেও তা সাধারণ দিনের তুলনায় খুব কম। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্র্যাফিক) মো: আনিসুর রহমান বলেন, বড়দিন উপলক্ষে ছুটি। এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার পরদিন শনিবার ছুটি রয়েছে। এ উপলক্ষে সবাই ঢাকার বাইরে চলে গেছেন। ফলে ঢাকায় গণপরিবহন একটু কম। তিনি বলেন, তারপরও আমরা ঢাকায় মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেলগুলোতে তল্লাশি করেছি।