বিএসএফকে শাসানো বাংলাদেশী যুবক ভাইরাল
Printed Edition
সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমানায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়া বিএসএফকে শাসানোর সময় হিন্দি ভাষায় কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ভাইরাল প্রতিবাদী যুবক নজরুল। তিনি স্থানীয় নলজুরি গ্রামের বাসিন্দা।
খেলার মাঠ নিয়ে যখন তুমুল ঝগড়ায় মেতে উঠে বিএসএফ সদস্যরা তখন নজরুল হিন্দিতে বিএসএফকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনাদের গায়ে হাত তোলা না হলেও আপনারা বন্দুক কেন তাক করলেন? ‘ইয়ে হামারা মুল্লক হে, হাসিনা পাসিনা নেহি এধার। একাত্তর সালছে ইয়ে হামারা হে। আপ লোগোনে সামস্তে নেহি, হাসিনা ইন্ডিয়া মে, হাসিনা পাসিনা এধার নেহিহে’। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটের নলজুরি খাসি হাওর ১২৭৮-৭৯ মেইন পিলারের কাছে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশের খেলার মাঠ দখলে সীমানার মধ্যে ঢুকে পড়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ সময় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিএসএফের সাথে তুমুল বাগি¦তণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নজরুলের সাথে এ সময় গ্রামবাসী এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে বিএসএফ পালিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নজরুল নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে গতকাল সকালে জানান, এই মাঠে আমরা শৈশব থেকে খেলাধুলা করছি। এটা আমাদের গ্রামের মাঠ; বিএসএফ এটা দখলের পাঁয়তারা করছে।
আমরা বেঁচে থাকতে দেশের এক ইঞ্চি মাটি ছাড় দেবো না। আমি হিন্দিতে তাদেরকে শাসানোর কারণে গ্রামবাসী সাহসী হয়ে উঠে। প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়। এখন সময় এসেছে জেগে ওঠার। সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে হবে সাহস নিয়ে।
বাংলাদেশ জরিপ বিভাগ, ঢাকা ও সিলেটের ম্যাজিস্ট্রেট ও সার্ভেয়ার এবং বিজিবি সদস্যরাসহ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে গোয়াইনঘাটের নলজুরি খাসিয়া হাওর ১২৭৮-১২৭৯ পিলারের মধ্যে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলার মাঠে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত জরিপ কাজে যান। নির্ধারিত সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সার্ভে দল সীমান্ত চিহ্নিতকরণে কাজ শুরু করে। সার্ভে কাজে সহযোগিতা করছিলেন বাংলাদেশের বিজিবি ও ভারতের বিএসএফ। তবে সার্ভে চলাকালে বিএসএফের কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খাসিয়া হাওর এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানান। সেখানে যাওয়ার পর খবর পেয়ে বাংলাদেশী সাধারণ জনতা জড়ো হন। একপর্যায়ে বিএসএফ বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করলে বাংলাদেশী সাধারণ জনতা উত্তেজিত হয়ে জরিপ করতে বিএসএফকে বাধা দেয়। বিজিবিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিএসএফকে বাধা প্রদান করে। এ সময় গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ পালিয়ে যায়।