প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক

Printed Edition
first-2
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সাথে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সাথে একান্ত বৈঠক করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকটি স্বল্প সময়ের হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে ইতোমধ্যে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের নামাজে জানাজা শেষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সাথে নিয়ে সংসদ ভবনের ভেতরে নিজের কার্যালয়ে যান এবং সেখানে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ মিনিট বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সংবাদমাধ্যমকে জানান, জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে সাথে নিয়ে নিজের কক্ষে আসেন এবং কিছুক্ষণ আলাপ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজে বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কক্ষ পর্যন্ত এগিয়ে দেন। তবে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বৈঠকের সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে, যা এই বৈঠকের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সংসদের ইতিহাসে বিরোধীদলীয় নেতার প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে গিয়ে বৈঠক করার ঘটনা খুবই বিরল। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগকে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু গোপন রাখা হয়েছে, তবুও এটি চলমান রাজনৈতিক সমঝোতা, সংসদীয় কার্যক্রমে সহযোগিতা কিংবা বৃহত্তর জাতীয় ইস্যুতে সমন্বয়ের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে দিলারা হাফিজের নামাজে জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সেখানে উপস্থিত হলে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকে সেই স্থান করে দেন- যা রাজনৈতিক সৌজন্যের একটি প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানাজা শেষে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা পাশাপাশি হেঁটে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন এবং আলাপ করতে করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। পরে বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তারা দু’জনই সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বৈঠককে ‘আইস-ব্রেকিং মোমেন্ট’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবুও এটি ভবিষ্যতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ বা সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করতে পারে- এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

বৈঠক শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ায় জনরায়কে সম্মান জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডা: শফিকুর রহমান। তিনি ওই জনরায় বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলমের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জানাজা ও বৈঠককালে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।