ডকুমেন্টারি ভিডিও প্রকাশ
সাংবাদিক মাসুম মিজানের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ ডিআরইউ ও ক্র্যাবের
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডকুমেন্টারি ভিডিও প্রকাশ করায় দৈনিক সময়ের বিশেষ প্রতিনিধি মো: মিজানুর রহমানের (মাসুম মিজান) বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়েছে। রাজধানীর সোনালী ব্যাংক লক্ষ্মীবাজার শাখার একটি ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও প্রকাশ করেন সাংবাদিক মো: মিজানুর রহমান (মাসুম মিজান)। এ ঘটনা আড়াল করতে উল্টো ব্যাংক ম্যানেজার ও মাসুম মিজানের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মানহানি মামলা করেন ডা: শাহারিয়া নামে এক নারী।
এ দিকে সাংবাদিক মাসুমের বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স (ক্র্যাব) অ্যাসোসিয়েশন। যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করাই সাংবাদিকের কাজ। পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে মাসুম মিজান তাই করেছেন। তাকে মামলায় জড়ানোর অর্থ সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেয়া, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তাই অবিলম্বে মাসুম মিজানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন নেতারা।
জানা গেছে, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১১/১১/২০২৫ তারিখ দায়ের করা সিআর মামলার (৩৭৫/২৫) তদন্তভার দেয়া হয় সূত্রাপুর থানা পুলিশকে। গত ৫ মার্চ মামলার তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত ও সোনালী ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ঘটনার শুরু গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর সোনালী ব্যাংক লক্ষ্মীবাজার শাখায়। ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা: শাহারিয়া খানম আরেকজনের অ্যাকাউন্টে ৭৫ হাজার টাকা পাঠাতে আসেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা তাকে জানান, ৫০ হাজার টাকার বেশি কোনো হিসাবে পাঠাতে প্রেরকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেয়ার রয়েছে বিধান বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু ডা: শাহারিয়া খানম পরিচয়পত্র ছাড়াই টাকা পাঠাতে চাপ দেন ওই কর্মকর্তাকে। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শাখা ব্যবস্থাপক মো: জহিরুল ইসলাম সুমন বিষয়টি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে ডা: শাহারিয়া উত্তেজিত হয়ে হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি বেসামাল করে তোলেন। তার টাকা জমা নিতেই হবে বলে তিনি প্রভাবশালীদের নাম করে ভয়ভীতি দেখান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে প্রভাবশালীদের কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনে ধরিয়ে দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত একাধিক গ্রাহক ডা: শাহারিয়াকে শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ম্যানেজারের কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করেন ডা: শাহারিয়া এবং জোর করেন জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই টাকা জমা নিতে। এ সময় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ম্যানেজারকে কক্ষ থেকে বের হতে বাধা দেন। তখন সেলিম মিয়া নামে এক গ্রাহক দরজা খুলে অবরুদ্ধ ম্যানেজারকে বের করে আনেন।
এ ঘটনাকে নিজের শ্লীলতাহানি বলে ডা: শাহারিয়া লিখিত অভিযোগ দেন সোনালী ব্যাংক এমডি বরাবর। এতে পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিতর্কের মুখে পড়েন ম্যানেজার মো: জহিরুল ইসলাম সুমন।
এ দিকে নির্ভরযোগ্য সোর্সের মাধ্যমে জেনে ঘটনাটি অনুসন্ধান করে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের প্রফেশনাল প্রোফাইলে প্রকাশ করেন সাংবাদিক মো: মিজানুর রহমান (মাসুম মিজান)।