সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির
তালিকায় ১০ সাবেক এমপি, প্রাধান্য পেয়েছেন নেতার স্ত্রী ও কন্যারাও
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের ভাগে পাওয়া ৩৬টি পদের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাক-নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে এই তালিকা প্রকাশ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
ঘোষিত তালিকায় ১০ জন সাবেক সংসদ সদস্য ঠাঁই পেলেও স্থান পেয়েছেন বেশ কিছু নতুন মুখ। বিশেষ করে রাজপথের লড়াকু ছাত্রনেত্রী থেকে শুরু করে দলের প্রভাবশালী নেতাদের স্ত্রী ও কন্যারা এবার বড় পরিসরে মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে দীর্ঘদিনের পরিচিত কয়েকজন হেভিওয়েট নেত্রী তালিকা থেকে বাদ পড়ায় দলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
মনোনয়ন তালিকায় অভিজ্ঞ ও নতুনদের সমন্বয় : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমান আবার সংসদীয় রাজনীতিতে ফিরছেন। তার সাথে তালিকায় রয়েছেন সাবেক হুইপ প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, যার অন্তর্ভুক্তি চট্টগ্রামে দলের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী এবং নিলোফার চৌধুরী মনি।
চমক ও পারিবারিক প্রতিনিধিত্ব
মনোনয়ন তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মানছুরা আক্তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের এই শিক্ষার্থী তালিকার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। এ ছাড়া পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। তার বাবা নিতাই রায় চৌধুরী বর্তমানে সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এ ছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীর কন্যা ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন মনোনয়ন পেয়েছেন।
মানবিক ও ত্যাগী রাজনীতিকদের মূল্যায়ন
গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি এবার সংসদে যাচ্ছেন। এ ছাড়া নির্যাতিত নেত্রী হিসেবে পরিচিত মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং করোনাকালে ও আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ডা: সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ও মাহমুদা হাবীবা মনোনয়ন পেয়েছেন। সংখ্যালঘু ও নৃগোষ্ঠী কোটায় নাটোর থেকে মনোনীত হয়েছেন আন্না মিনজ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা।
বিতর্ক ও সমালোচনা
৩৬ জনের এই তালিকায় গোপালগঞ্জের সুবর্ণা সিকদার ঠাকুরকে নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ত্যাগী নেত্রীদের বাদ দিয়ে অন্য দল থেকে আসা কাউকে মনোনয়ন দেয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
চূড়ান্ত মনোনীত ৩৬ জনের তালিকা :
সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা: ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবীবা, সাবিরা সুলতানা, ডা: সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর, অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আলম, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন রনি, মানছুরা আক্তার, ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, সানজিদা ইয়াসমিন তুলি (ছাত্রদল), নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার হীরা, অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা এবং অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী। সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানান, দলের স্থায়ী কমিটি দুই দিনব্যাপী দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের এই তালিকায় অগ্রাধিকার দিয়েছে।