• রহিমা খাতুন

নোকিয়া ফোন দিয়ে নাটক বানাতেন মিশাল আলসুনাইদ। এখন তিনি সৌদি থিয়েটারের জনপ্রিয় মুখ। বয়স যখন নয় তখন কাজিনদের সাথেই এসব ভিডিও তৈরি করতেন। কখনো বীর, কখনো ভূতের চরিত্রে অভিনয় করে পরিবারের সদস্যদের বিনোদন দিতেন তিনি। সেই শৈশবের আগ্রহই ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে যায় পেশাদার অভিনয়ের জগতে। প্রায় ৯ বছর বয়সে অভিনয়ের হাতেখড়ি হয় আলসুনাইদের। রিয়াদ থেকে সৌদির পূর্বাঞ্চল—আত্মীয়দের বাড়ি কিংবা নিজেদের বাড়ির বেসমেন্ট, সুযোগ পেলেই কাজিনদের সঙ্গে নাটকের দৃশ্য ধারণ করতেন।

কমেডিতে গুরুতর চরিত্র কিংবা নাটকে হাস্যরসাত্মক চরিত্রে অভিনয় করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে তিনি। চরিত্রকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করাই তার অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন আলসুনাইদ।

শৈশবের অভিনয়ের প্রায় এতসব পরে নিজেকে অভিনয় দেখতে পেলেন আসসুনাইদ তবে সেটা পেশাগতভাবে।

নিউইয়র্কে পড়াশোনার সময়ই তার সঙ্গে পরিচয় হয় ‘দ্য অ্যারাবিক থিয়েটার কোম্পানি’র প্রতিষ্ঠাতা ইসলাম বালবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের পর একটি আরবি ইম্প্রোভাইজেশন শোতে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব পান আলসুনাইদ।

প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ শুরু করে দেন। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

২০২৪ সালে ‘দ্য অ্যারাবিক থিয়েটার কোম্পানি’ আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উত্তর আমেরিকায় আরবি ও ইংরেজি—দুই ভাষায় নাটক ও ইম্প্রোভাইজেশন পরিবেশন করে দলটি।

লেভান্ত, উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর আফ্রিকার শিল্পীদের একই মঞ্চে নিয়ে আসাকে দলের অন্যতম বড় শক্তি মনে করেন আলসুনাইদ। তার মতে, ভিন্ন ভিন্ন আরব অঞ্চলের শিল্পীদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাদের পরিবেশনাকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

দলটির জনপ্রিয় পরিবেশনার মধ্যে রয়েছে আরবি ও ইংরেজির সমন্বয়ে ইম্প্রোভাইজেশনভিত্তিক অনুষ্ঠান। নিউইয়র্ক, মন্ট্রিয়ল ও অটোয়ায় ইতোমধ্যে এসব পরিবেশনা হয়েছে। ভবিষ্যতে টরন্টোতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সৌদি আরবের পরিবর্তনশীল সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়েও আশাবাদী এই অভিনেতা। তার মতে, দেশটিতে নতুন নতুন শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষ যুক্ত হওয়ায় একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরি হচ্ছে।

লেখক: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।