শিহরণ জাগানিয়া সিরিজ জয় বাংলাদেশের

Printed Edition

জসিম উদ্দিন রানা

এই তো কয়েক মাস আগে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে চট্টগ্রামের রয়্যালসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তার সেই সেঞ্চুরির সুবাদে এক যুগ পর শিরোপা ঘরে তুলেছিল ওয়ারিয়র্সরা। সেটি ছিল টি-২০। গতকাল বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে অলিখিত ফাইনালেও সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর পেসারদের তাণ্ডবে খেই হারাল পাকিস্তান। মধ্যে অবশ্য কিছুটা অস্বস্তি স্বাগতিক শিবিরে। পাকিস্তানের সালমান আলি আগাও করলেন সেঞ্চুরি। শেষ ওভার পর্যন্ত পেন্ডুলামের মতো ঝুলছিল ফলাফল। শেষ পর্যন্ত শিহরণ জাগানিয়া ম্যাচে বাংলাদেশের ১১ রানে জয়। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১-এ জিতে নিলো বাংলাদেশ। এ নিয়ে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

মিরপুরে যখন সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই, তখন ব্যাট হাতে আলো ছড়ালেন তানজিদ হাসান তামিম। চাপের ম্যাচে শান্ত মেজাজে ঝলমলে ইনিংস, তানজিদের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে শক্ত পুঁজি গড়ল বাংলাদেশ। এরপর পেসারদের ঝলমলে পারফরম্যান্সে কাক্সিক্ষত ফল। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে তানজিদ হাসান তামিমের অভিষেক সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২৯০ রান করেছে স্বাগতিকরা। জবাবে ২০ ওভারে ২৭৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

জবাবে শুরু থেকেই পেসারদের তাণ্ডবে দিশেহারা পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই আঘাত হেনেছেন তাসকিন আহমেদ। ছয় রানে ফিরেছেন ওপেনার সাহেবজাদা ফারহান। পরের ওভারে আঘাত হানেন নাহিদ রানা। আগ্রাসী হতে চাওয়া মাজ সাদাকাতকেও (৬) গ্লাভসবন্দী করান তিনি। তারপরের ওভারে তাসকিন আবারো আঘাত হানলে তিন ওভারেই বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। নতুন ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে চার রানে বোল্ড করেছেন তিনি। পাকিস্তান তিন উইকেট হারায় ১৭ রানে! শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন অভিষিক্ত গাজি ঘোরি ও আবদুল সামাদ। চতুর্থ উইকেটে ৫০ রান যোগ করেন তারা। ১৪তম ওভারে এই জুটি ভেঙেছেন নাহিদ রানা। গাজি ঘোরিকে ২৯ রানে বোল্ড করেছেন তিনি। ১৭.৪ ওভারে সামাদকে লিটনের গ্লাভসবন্দী করান মোস্তাফিজুর রহমান।

৪৪ বলে ৩৮ রান করা সাদ মাসুদকে বোল্ড করেছেন কাটার মাস্টার। সালমান-সাদের জুটি ভাঙলেও প্রান্ত আগলে মূল লড়াইটা চালিয়েছেন সালমান আলী আগা। ফাহিম আশরাফ চেষ্টা করছিলেন সঙ্গ দিতে। কিন্তু দলের ২০৯ রানে তাকে ৯ রানে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল সালমান ৮৯ বলে ৯ চার ও চার ছয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত তাকে ১০৬ রানে ফেরান তাসকিন। দলের রান তখন ৪৭.৪ ওভারে ২৬১। ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলটি যখন মোস্তাফিজ করলেন রউফের বলটি সরাসরি আঘাত হানে মোস্তাফিজের হাঁটুতে। লুটিয়ে পড়েন ক্রিজে। উঠেই শেষ বলটিতে রউফ (১) বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দেন মিরাজকে। ৫০তম ওভারের শেষ বলে শাহিনকে ফেরান রিশাদ। তাতে অলআউট পাকিস্তান। বাংলাদেশের জয় ১১ রানে।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলতে থাকে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। তাদের ব্যাটে হয় ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি, যা দলের ইনিংসের শক্ত ভিত তৈরি করে দেয়। ইনিংসের ১৯তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির বল এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাইফ হাসান (৩৬)। নাজমুল হোসেন শান্ত তানজিদের সাথে মিলে তিনি দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রান যোগ করেন। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে শান্ত করেন ২৭ রান।

অন্য দিকে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ৪৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর ধৈর্য ধরে ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯৮ বলে শতকে পৌঁছান এই বাঁ হাতি ওপেনার, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তবে সেঞ্চুরির পর বেশি সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি। ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন ছিল ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কায়।

তানজিদের বিদায়ের পর ইনিংসের হাল ধরেন তৌহিদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে লিটন কুমার দাসকে সাথে নিয়ে তিনি গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৬৮ রানের জুটি। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে ৪১ রান করেন লিটন। বোল্ড হয়ে ফেরেন রিশাদ হোসেন (০)।

৪৯তম ওভারে আসে পাঁচ রান এবং শেষ ওভারে আট রান। ফলে শেষ দুই ওভারে মাত্র ১৩ রান যোগ হওয়ায় ৩০০ মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশ থামে পাঁচ উইকেটে ২৯০ রানে। হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮ রানে এবং আফিফ হোসেন আট বলে পাঁচ রানে অপরাজিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-টস পাকিস্তান

বাংলাদেশ : ২৯০/৫ (তানজিদ ১০৭, হৃদয় ৪৮*, লিটন ৪১, সাইফ ৩৬, নাজমুল ২৭, রউফ ৩/৫২, আফ্রিদি ১/৫৫, আবরার ১/৪৯)।

পাকিস্তান : ২৭৯/১০ (সালমান ১০৬, শাহিন ৩৭, ফারহান ৬, সাদাকাত ৬, রিজওয়ান ৪, ঘোরি ২৯, সামাদ ৩৪, সাদ ৩৮, ফাহিম ৯, তাসকিন ৪/৪৯, নাহিদ ২/৬২, মোস্তাফিজ ৩/৫৪, রিশাদ ১/৫৬)।

ফল : বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।

সিরিজ : বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী।

ম্যাচ ও সিরিজ সেরা : তানজিদ হাসান তামিম।