রুমিন ফারহানা ও আপ বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের এনসিপিতে যোগদানের গুঞ্জন
Printed Edition
ঢাবি প্রতিনিধি
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) দেশের পরিচিত রাজনৈতিকব্যক্তিত্ব ও জুলাই আন্দোলনের একঝাঁক শীর্ষ নেতার যোগদানের গুঞ্জন জোরালো হয়ে উঠেছে। এই তালিকায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা থেকে শুরু করে ‘আপ বাংলাদেশ’ ও এ বি পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নাম আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য এই সংযুক্তি বাস্তবায়িত হলে দলটি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত জুলাই আন্দোলনের শক্তিগুলোকে একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করতেই এনসিপি এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত তালিকায় রয়েছেন ‘আপ বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত, মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা ও যুগ্ম প্রধান সংগঠক ফায়াজ শাহেদ। এ ছাড়া এ বি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার খান আজম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের এনসিপিতে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে ৯ দফা আন্দোলনের ঘোষক ও ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদপ্রার্থী আবদুল কাদের এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসিব আল হাসানের সাথেও আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ব্যক্তিগত যোগদানের পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মভিত্তিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোকে একত্রিত করতে এনসিপি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও আলী আহসান জুনায়েদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সংগঠনগত সমন্বয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা ও যৌথ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, আপ বাংলাদেশের শীর্ষ তিন নেতাসহ অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী নীতিগতভাবে এনসিপিতে যোগদানে সম্মত হয়েছেন। একই সাথে এ বি পার্টির একটি অংশ থেকেও কয়েকজন শীর্ষ নেতা যোগ দিতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার খান আজম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।
এ ছাড়া ছাত্ররাজনীতি ও আন্দোলনভিত্তিক নেতৃত্ব থেকেও যোগাযোগ চলছে। আবদুল কাদের, হাসিব আল হাসান ছাড়াও কয়েকজন তরুণ নেতার সাথে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে দলটিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সম্ভাব্য নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে বড় আয়োজনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে এনসিপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ এপ্রিল সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত সমঝোতার ওপর নির্ভর করে তা পরিবর্তিত হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল কাদের বলেন, তার যোগদানের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। অন্য দিকে আপ বাংলাদেশের এক শীর্ষ নেতা জানান, আলোচনা চলছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আপ বাংলাদেশের যুগ্ম প্রধান সংগঠক ফায়াজ শাহেদ বলেন, তাদের সংগঠন ভেঙে যায়নি এবং আরেফিন মোহাম্মদ হিযবুল্লাহর নেতৃত্বে এটি সিভিল সোসাইটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে। তবে রাজনৈতিক সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐক্যের বিষয়ে তারা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বিভিন্ন মহলের সাথে আলোচনা চলছে। কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও সব কিছু এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনভিত্তিক নেতৃত্ব, তরুণ প্রজন্ম ও মূলধারার রাজনীতির অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে তা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।