ডিমলায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ভুল রিপোর্টে ভোগান্তি রোগীদের
Printed Edition
মো: রেজোয়ান ইসলাম, ডিমলা (নীলফামারী)
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘিরে গড়ে ওঠা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অদ জনবল, নিম্নমানের রি-এজেন্ট এবং কার্যকর তদারকির অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত ভুল রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় বিষয়টি উদ্বেগজনক মাত্রায় সামনে এসেছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা নড়বড়ে করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ বছরের শিশু সোহানের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ডিমলা স্কয়ার কিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীা করানো হয়। সেখানে রক্তে আরবিএস ১২.৬ এবং ইউরিনে সুগার পজিটিভ দেখিয়ে শিশুটিকে ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে রিপোর্ট দেয়া হয়। এতে পরিবারে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রংপুরে নেয়া হয়।
পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল রংপুরের একটি স্বনামধন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় পরীা করলে সম্পূর্ণ ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যায়। খালি পেটে রক্তে সুগার ৩.৭০ এবং খাবারের দুই ঘণ্টা পর ৪.২৮ পাওয়া যায়। একইভাবে ইউরিন পরীাতেও ডায়াবেটিস নেগেটিভ আসে। এতে প্রমাণিত হয়, আগের রিপোর্টটি ছিল ভুল ও ভিত্তিহীন। একটি শিশুকে অযথা গুরুতর রোগী হিসেবে চিহ্নিত করে পরিবারকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি আর্থিক তির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
এদিকে, জন্ডিস শনাক্তকরণ নিয়েও চরম অসঙ্গতির ঘটনা সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর ১৫ এপ্রিল স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি প্রতিষ্ঠানে রক্ত পরীা করান। কিন্তু তিন জায়গায় তিনি তিন রকম ফলাফল পান। একটিতে তিনি পান বিলিরুবিন ২৬.২, অন্যটিতে ১০.৫ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি বিলিরুবিনের মাত্রা পান ১২.৫। একই রোগীর েেত্র এত বড় ব্যবধান চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অস্বাভাবিক, যা রোগী ও স্বজনদের চরম বিভ্রান্তিতে ফেলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব টেকনোলজিস্ট কবীর হোসেন বলেন, মেশিন ও রি-এজেন্টভেদে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে, তবে বড় ধরনের ব্যবধান গ্রহণযোগ্য নয়। মেডিক্যাল অফিসার ডা: মনিরুজ্জামানও জানান, এ ধরনের পার্থক্য টেকনোলজিস্টের গাফিলতি বা নিম্নমানের উপকরণের ফল হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই মানসম্মত ল্যাব সুবিধা, প্রশিতি জনবল এবং নিয়মিত তদারকির অভাব রয়েছে। রোগ নির্ণয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে পুঁজি করে এক ধরনের ‘টেস্ট বাণিজ্য’ চলছে, যেখানে রোগীর জীবন ও নিরাপত্তা উপেতি থেকে যাচ্ছে।