মোহামেডানকে ফাইনালে তুললেন সৌরভ

গোলের মধ্যেই আছেন সৌরভ দেওয়ান। ফেডারেশন কাপে টানা ৩ ম্যাচে গোল পেলেন তিনি। তার নামের পাশে এখন ৬ গোল।

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মোহামেডান ২-১ ব্রাদার্স

ইনজুরিতে ভুগছেন মোহামেডানের ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার স্যামুয়েল বোয়েটাং। তার এই অভাব পূরণে দেশী স্টাইকার সৌরভ দেওয়ানের ওপর আস্থা রাখেন কোচ আবদুল কাইয়ুম সেন্টু। সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েই চলছেন উঠতি স্ট্রাইকারটি। কাল কুমিল্লা স্টেডিয়ামে তার করা জোড়া গোলেই ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠে গেছে সাদা কালো শিবির। প্রতিপক্ষ ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা এখন ১৯ মে আসরের ফাইনালে পাচ্ছে বসুন্ধরা কিংসকে। ফলে ২০২৩-২৪ সালের পর ফের এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডান।

আগের দিন ব্রাদার্সের কোচ ওমর সিসে জানিয়েছিলেন তিনি বৃষ্টি এবং কাদামুক্ত মাঠ চান মোহামেডানের বিপক্ষে কোয়ালিফায়ার রাউন্ড থ্রির এই ম্যাচে। কুমিল্লার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামের মাঠ শুকনা ছিল। দুই দলের লড়াইও হয়েছিল জমজমাট। তাই ম্যাচে জয় পরাজয়ের ঘটনা ঘটেছে ৯০ মিনিট পরের ইনজুরি টাইমে। ৯২ মিনিটের সেই গোলই হতাশায় ডোবায় গোপীবাগের দলটিকে। এই হতাশা থেকেই ম্যাচ শেষে মোহামেডানের উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফফরভকে মেরে মুখ ফাটিয়ে দিয়েছেন ব্রাদার্সের গিনির ফুটবলার ইব্রাহিম বারে এবং সেনেগালের মোহাম্মদ দিয়ারা। এতে ক্ষুব্ধ মোহামেডানের খেলোয়াড়রা ব্রাদার্সের এই আফ্রিকান খেলোয়াড়দের দিকে তেড়ে গেলেও পরে মাঠে উপস্থিত অন্যদের হস্তক্ষেপে বাকি দুখঃজনক কিছু ঘটেনি। রেফারি লাল কার্ড দেখান ব্রাদার্সের এ দুই ফুটবলারকে।

ম্যাচে দুই দলই গোলের চান্স মিস করেছে। এরপরও ৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায় ফেডারেশন কাপের ২০২২-২৩ সেশনের চ্যাম্পিয়নরা। রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো থেকে আসা বলে বক্সে মোহামেডানের এলি কেকের মাথা ছুঁয়ে আসা বলে ছুটে এসে হেড করেন সৌরভ দেওয়ান। তাতেই পরাস্ত ব্রাদার্স ইউনিয়নের গোলরক্ষক ইশাক আকন্দ। অবশ্য এই সৌরভই এরপর আরেকবার হেডে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন। গোল পরিশোধের চেষ্টা চালাতে থাকে ব্রাদার্সও। কিন্তু নাইজেরিয়ান স্যামুয়েল চিগোজি এবং পাকিস্তানি শায়েক দোস্তরা সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় ম্যাচে ফেরা হচ্ছিল না ২০০৫, ১৯৯১ এবং ১৯৮০ সালের চ্যাম্পিয়নদের। শেষ পর্যন্ত ব্রাদার্স সমতা আনে ৭৩ মিনিটে। সেট পিচের জন্য নামকরা বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তার দর্শনীয় ফ্রি-কিকেই পরাস্ত মোহামেডান কিপার সুজন হোসেন। চলতি মৌসুমে এটিই ডেনমার্ক প্রবাসী ফুটবলারটির প্রথম গোল। অবশ্য এ সুজন ৪৯ মিনিটে আলমগীর গাজীর ভলি আসামান্য দক্ষতায় রুখে দেন।

ম্যাচ যখন ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি টাইমে গড়িয়েছিল তখন অনেকেই ভেবে ছিলেন হয়তো খেলা অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়াবে। তা অবশ্য হতে দেননি দুই বছর বিসিএলে ২৫ গোল করা (ওয়ারির হয়ে ১১ ও ওয়ান্ডারার্সের জার্সিতে ১৪) সৌরভ। মোজাফফরভের কর্নারে ব্রাদার্সের বক্সে জটলার সৃষ্টি করে। তখন বিপক্ষ দুই ডিফেন্ডারের ভুলের ফলে ফাঁকায় বল পান সৌরভ। এতে মুহূর্তেই তার নেয়া ডান পায়ের তীব্র ভলি আশ্রয় নেয় জালে। এতে ১৭ বারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো দর্শকপ্রিয় দলটি।

এ গোলের মাধ্যমে নিজের ফর্মটা ধরেই রাখলেন সৌরভ। ৬ গোল পেলেন টানা ফেডারেশন কাপের টানা তিন ম্যাচে। আরামবাগের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। এরপর কোয়ালিফায়ার রাউন্ড টুতে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে এক গোল। আর কাল জোড়া গোল। ফলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনিই। চলতি সিজনে তার মোট গোল ৭টি। তার অপর গোল লিগে। এবারের ফেডারেশন কাপে প্রথম দেশী ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি।