বারদেমের ফিলিস্তিনপন্থী বার্তা ও প্রিয়াঙ্কার অস্বস্তি
Printed Edition
বিনোদন প্রতিবেদক
গত রোববারের একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে ‘সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার চলচ্চিত্র’ বিভাগে পুরস্কার প্রদানের মুহূর্তটি অস্কার ইতিহাসের অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম যখন মঞ্চে পা রাখেন, তখন তার পোশাকে জ্বলজ্বল করছিল ফিলিস্তিনের সমর্থনে একটি পিন এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো আরেকটি পিন। কেবল প্রতীকী প্রতিবাদেই ক্ষান্ত হননি বারদেম; মাইক হাতে নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তিনি ঘোষণা করেন, ‘যুদ্ধকে না বলুন এবং ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন।’ তার এই জোরালো মানবিক অবস্থান উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে বিপুল করতালি ও সমর্থন পেলেও মঞ্চে তার ঠিক পাশেই সহ-উপস্থাপক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বারদেমের বক্তব্যের সময় প্রিয়াঙ্কাকে দৃশ্যত অপ্রস্তুত এবং বিব্রত দেখাচ্ছিল। তার মুখের এক চিলতে কাষ্ঠ হাসি এবং অস্বস্তিকর শারীরিক ভাষা নেটিজেনদের নজর এড়ায়নি। বারদেমের মতো একজন স্বীকৃত যুদ্ধবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী ব্যক্তিত্বের পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয়াঙ্কার এমন প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি তার সমর্থন এবং ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে তার নীরবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে প্রিয়াঙ্কার ভূমিকাও এখন কাঠগড়ায়।
এর আগে ২০১৯ সালে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়া এবং গাজায় ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে নামমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট করার কারণে তাকে বারবার ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। নেটিজেনরা ইসরাইলি অভিনেত্রী গাল গাদোতের কট্টর সামরিক সমর্থনের সাথে প্রিয়াঙ্কার সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছেন, যার ফলে পাকিস্তানি ও অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী তাকে বিদ্রƒপ করে ‘ডাল গাদোত’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন। সমালোচকদের মতে, বারদেমের মতো একজন সোচ্চার ব্যক্তিত্বের সাথে মঞ্চ শেয়ার করার সময় অন্তত নিজের অভিব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত ছিল প্রিয়াঙ্কার, যাতে তাকে এতটা কুণ্ঠিত ও অমানবিক বলে মনে না হতো।