চট্টগ্রামে ধর্ম উপদেষ্টা

যৌতুক বন্ধে ইমাম-খতিবদেরকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে

চট্টগ্রাম ব্যুরো
Printed Edition
back-3
ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন চট্টগ্রামে বিবাহ রেজিস্ট্রারদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন : নয়া দিগন্ত

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, যৌতুক বন্ধে ইমাম-খতিবদেরকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। বিভিন্ন ফোরামে ইমাম-খতিবদের কথা বলার যে সুযোগ রয়েছে সেটা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, বিবাহ নিবন্ধনের সময় কাজি ও সহকারীরা অনেক সময় সরকারি বিধান না মেনে অতিরিক্ত ফি আদায় করে। এ ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে এবং ফি আদায়ের রশিদ দিতে হবে। তিনি নিকাহ রেজিস্ট্রারদের সরকারি বিধি মোতাবেক ফি আদায়ের অনুরোধ করেন। এ ছাড়া, উপদেষ্টা বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ফোরামকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার অনুরোধ জানান।

গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রামের এলজিইডি ভবনের কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী মিলনায়তনে মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ফোরামের সভাপতি কাজী ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান আলীসহ ফোরামের নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।

বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ফোরামের উদ্যোগে বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে কনের স্থায়ী ঠিকানার কাজি কর্তৃক বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন প্রণয়ন এবং বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার কমিশন কর্তৃক বিবাহ নিবন্ধন ফি তিন ভাগে ভাগ করার বিষয়ে এ মতবিনিময় সভা আয়োজন করে।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, যৌতুক দেয়া- নেয়া অপরাধ। যৌতুক সমাজের অভিশাপ। এরূপ স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুনে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না। যৌতুক নিরুৎসাহিত করতে ইমাম-খতিবদের কথা বলতে হবে। খতিব, ইমাম কিংবা কাজিদের নানা ফোরামে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বাল্যবিবাহ রোধে নিকাহ রেজিস্ট্রার ফোরামের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম যুগ যুগ ধরে অবহেলিত উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর এই সড়কে দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ মারা যায়। সম্প্রতি এই সড়কে খুবই দুঃখজনক একটি ঘটনা ঘটেছে। এটা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন হচ্ছে। তিনি এই সড়কের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান। এ ছাড়া, অল্পদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক ছয় লেনে উন্নীত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় ফোরামের নেতারা বাল্যবিবাহ বন্ধে কনের স্থায়ী ঠিকানায় কাজী অফিসে বিবাহ নিবন্ধন, বিবাহ নিবন্ধন ফি তিনভাগে ভাগ করার সুপারিশ বাতিল এবং বিবাহ নিবন্ধনে বরের বয়স ২০ ও কনের বয়স ১৬ করাসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্তরের নিকাহ রেজিস্ট্রাররা উপস্থিত ছিলেন।