চীনের সাথে সমঝোতায় নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী

Printed Edition

বাসস

চীনের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। চীনের সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে আমি চীন সরকারের সাথে চারটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছি। এর মাধ্যমে দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’ ‘চীনের মতো একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দেশের সাথে গণমাধ্যমে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গবেষণার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনতে পারব বলে আমরা আস্থাবান।’

গত বৃহস্পতিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে সই হয়। এসবের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট চারটি সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং, প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের স্পিকারের মতো সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যে সম্মান ও গুরুত্ব পেয়েছি এবং যে আলোচনা হয়েছে তাতে আমরা আশাবাদী যে, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আমাদের দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মর্যাদা ও সম্মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’ তিনি জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দুটি চুক্তি এবং বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চীনে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটাই প্রথম বিদেশ সফর। চীনের আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় আমরা মুগ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলের প্রতি চীনের যে আন্তরিকতা, তা প্রকৃত অর্থে আমাদের দেশের জনগণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ও ভালোবাসারই প্রতিফলন।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠকে উল্লেখ করেছেন যে, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক গুণগতভাবে এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে। যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এবং যা বিকশিত হয়েছিল আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের মাতা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে- তা এখন আমাদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে এক নতুন স্তর অতিক্রম করতে যাচ্ছে। এই মন্তব্য আমার নয়, স্বয়ং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের।’ গত ১২ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে চীন সফর করেন। চার দিনের চীন সফরের প্রথম দুই দিন তিনি দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। এরপর বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যান।