রাফাহ সীমান্ত বন্ধে চিকিৎসা সঙ্কট তীব্র

গাজায় ইসরাইলের হামলায় আরো ৫ ফিলিস্তিনি নিহত

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইসরাইলের অব্যাহত হামলায় গাজায় আরো পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চলমান আঞ্চলিক সঙ্ঘাতের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটছে। গাজার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত গাজা সিটি ও খান ইউনুসে এ পাঁচজন নিহত হন। যদিও ১০ অক্টোবর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ইসরাইল শত শতবার লঙ্ঘন করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৫৮ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার ইসরাইলি বাহিনী খান ইউনুসে একটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালায়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত ও কয়েকজন আহত হন। এ দিকে বালুঝড় গাজাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। স্বাক্ষীরা জানিয়েছেন, ধুলোমাখা বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁবুতে থাকা পরিবারগুলো চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

রাফাহ সীমান্ত বন্ধে চিকিৎসা সঙ্কট

রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসা সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে। ছয় মাস ধরে যুদ্ধবিরতি চললেও হাজারো আহত, বিশেষ করে শিশু, জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছে। সীমান্ত আংশিক খোলার পর অল্প কয়েকজন বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পেলেও আবার তা বন্ধ হয়ে গেছে।

১২ বছরের হামদি নামের এক শিশু ইসরাইলি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়েছে। প্রতিদিন ফিজিওথেরাপি করলেও অস্ত্রোপচার ছাড়া তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার হলে সে আবার হাঁটতে পারে। হামদির বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি থাকলেও রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় সে এখনো গাজায় আটকে আছে।

হামদির মা সাবরিন মাজেন জানিয়েছেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিকিৎসার রেফারেল পাওয়া গেলেও সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা যেতে পারছেন না। গত মাসে সীমান্ত আংশিক খোলা হলেও সীমিত সংখ্যক রোগীই বাইরে যেতে পেরেছেন। হাজারো মানুষ এখনো চিকিৎসার জন্য গাজায় আটকে রয়েছেন।

বালুঝড়ে বাস্তুচ্যুতদের দুর্ভোগ

গাজা উপত্যকায় টানা দুই দিনের বালুঝড়ে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে। ফিলিস্তিনি সরকারি বার্তা সংস্থার বরাতে আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ধুলো ও বালুভরা প্রবল বাতাসে বিশেষ করে তাঁবুতে বসবাসকারী পরিবারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঝড়ের কারণে পুরনো ও নড়বড়ে তাঁবুগুলো বারবার দুলে উঠছে এবং অনেক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু ও আশপাশের গাছপালা তীব্রভাবে কাঁপছে।

যেসব ফিলিস্তিনি অসুস্থ বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। খোলা জায়গা ও জরাজীর্ণ তাঁবুতে বসবাস করায় ধুলোবালুর কারণে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। দীর্ঘদিনের সঙ্ঘাতের কারণে নিরাপদ বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবার অভাব থাকায় ঝড়ের প্রভাব আরো গুরুতর হয়ে উঠেছে।

গাজায় ইসরাইলি হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো ইতোমধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সঙ্কটে ভুগছে। তার সাথে তীব্র ঠাণ্ডা, ঝড়ো আবহাওয়া এবং এখন বালুঝড় তাদের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঠাণ্ডা ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে গাজার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল।

পশ্চিম তীরেও সহিংসতা

এ দিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কিসান গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি আহত হন। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের চিকিৎসা কর্মীরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। স্থানীয় সূত্র জানায়, একই ঘটনায় কয়েকজন রাখালের কাছ থেকে কয়েক ডজন ভেড়া লুট করা হয়েছে।

অন্য দিকে হেবরনের নিকটবর্তী দূরা শহরে ইসরাইলি বাহিনী এক ফিলিস্তিনি বন্দীর পরিবারের বাড়ি বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করেছে। বাড়িটি ছিল আজমি নাদির আবু হিলেইল নামের এক বন্দীর পরিবারের। বিস্ফোরণে তিনতলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট ধসে পড়ে এবং আশপাশের বাড়িতেও ফাটল দেখা দেয়। ঘটনায় পরিবারটির ১০ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ২৩৪ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আনাদোলু এজেন্সির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় আরো সাতজন ফিলিস্তিনির লাশ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, মাগাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্বে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ৫৪ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।