ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৪ অন্ধকারে ৬ অঞ্চল
Printed Edition
রয়টার্স
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চার বছরব্যাপী যুদ্ধের ভয়াবহতা আরো বাড়িয়ে দিয়ে রাতভর ইউক্রেনজুড়ে বিশাল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। গতকাল শনিবার ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মতে, এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং দেশটির পাঁচটি অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কিয়েভ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো। তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো শুধু সামরিক বা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; আবাসিক ভবন, স্কুল এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও এই হামলার শিকার হয়েছে।
কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান মাইকোলা কালাশনিক জানান, নিহতের চারজনই কিয়েভ অঞ্চলের বাসিন্দা। এ ছাড়া সেখানে অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং চারটি জেলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এই এক রাতে প্রায় ৪৩০টি ড্রোন এবং ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর বেশির ভাগই আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও কিছু ড্রোন ও মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। কিয়েভ ছাড়াও সুমি, খারকিভ, দিনিপ্রো এবং মাইকোলাইভ অঞ্চলকে লক্ষ্য করে এই ব্যাপক হামলা চালানো হয়।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় বলেন, ‘রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে (ইরান ও মার্কিন সঙ্ঘাত) কাজে লাগিয়ে ইউরোপে, বিশেষ করে ইউক্রেনে আরো বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর চেষ্টা করছে।’ তিনি ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর কাছে জরুরি ভিত্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় শনিবার সকালে জানিয়েছে, রাশিয়ার রাতভর বোমাবর্ষণ এবং সম্মুখ সমরে গোলাগুলির ফলে দেশের ছয়টি অঞ্চলের গ্রাহকরা এখন পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। ফ্রন্টলাইন বা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে এই বিপর্যয় সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে।
এ দিকে রাশিয়ার এই বিশাল বিমান হামলার কারণে প্রতিবেশী দেশ এবং ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ডের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পোলিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের আকাশসীমার কাছাকাছি চলে আসায় তারা সতর্কতা হিসেবে আকাশে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।