চৌগাছা হাসপাতালে ৪ ডাক্তার বছরের পর বছর অনুপস্থিত

Printed Edition

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

যশোরের চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কটে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি চারজন চিকিৎসক বছরের পর বছর বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন, কার্ডিওলজি, শিশু ও সার্জারি), মেডিক্যাল অফিসার ও ডেন্টাল সার্জনসহ অন্তত আটটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর বাইরে চারজন চিকিৎসক কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়েই বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত। হাসপাতালের একাধিক সূত্রের দাবি, তারা বিদেশে অবস্থান করছেন। তবে পদগুলো শূন্য ঘোষণা না হওয়ায় সেখানে নতুন চিকিৎসক পদায়নও সম্ভব হচ্ছে না।

সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত ছয়জন চিকিৎসকের কারণে। তাদের মধ্যে দুইজন সহকারী সার্জন ও চারজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট রয়েছেন। ফলে হাতেগোনা কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সকে বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৮৬টি পদ দীর্ঘদিন খালি থাকায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

জাতীয়ভাবে ১৬ বার দেশসেরা পুরস্কার পাওয়া চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে প্রতিদিন যশোর সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, শার্শা ও ঝিকরগাছাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সীমিত জনবল নিয়ে এ বিপুল চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক রোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আহসানুল মিজান রুমী বলেন, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, প্রেষণে থাকা চিকিৎসকদের প্রত্যাহার এবং হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ১০০ শয্যার কার্যক্রম চালুর বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।