হাকর নদী দখল করে মাছ চাষ
Printed Edition
আব্দুল মান্নান শার্শা (যশোর)
যশোরের বেনাপোল এলাকার একসময়ের খরস্রোত হাকর নদী এখন প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে, এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। নদীর বিস্তীর্ণ খাস জমি দখল করে কোথাও ইমারত নির্মাণ, আবার কোথাও ভেড়িবাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ উঠলেও দখলমুক্তে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
বেনাপোল ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, তাদের অধিভুক্ত প্রায় ১৭৬ একর খাস জমি বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখল করে ভোগদখল করছেন। এর মধ্যে হাকর নদী ও আশপাশের একাধিক মৌজায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি রয়েছে। এ ছাড়া কোদলা ও বেতনা নদীর কিছু অংশও দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব খাস জমির একটি বড় অংশ ১৯৫৬ সালের এসএ রেকর্ডে ব্যক্তি মালিকানায় দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালের আরএস রেকর্ড নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে তারা জানান। এ সুযোগে দখলদাররা জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাছ চাষসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন।
শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মখদুম জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকারি জমি দখলের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, খাস জমিগুলো বর্তমানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নদী সেল শাখার টাস্কফোর্সের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দখলদারদের উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেয়া হবে।