উদ্ধার হওয়া কার্তুজ ও বুলেটের ব্যালিস্টিক পরীক্ষার নির্দেশ
ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইযোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলোর ব্যালিস্টিক পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অপর দিকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত ‘ফায়ার কার্তুজ’ ও ‘ফায়ার বুলেট’সদৃশ বস্তুগুলোর বিস্তারিত জানতে সিআইডির ব্যালিস্টিক শাখার বিশেষ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনায়েদ এই আদেশ দেন।
ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীর জবানবন্দী : ওসমান হাদি হত্যা মামলার তিন আসামি গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। স্বীকারোক্তি দেয়া আসামিরা হলেন- মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, ফয়সালের শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ ও বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা। প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের বাবা-মা আদালতে অপরাধে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের এই স্বীকারোক্তির পর বিচারক উভয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ফয়সালের বাবা মো: হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আসামি সাহেদা পারভীন সামিয়া, ওয়াহিদ আহমেদ ও মারিয়া আক্তার লিমাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামিদের জবানবন্দী রেকর্ড করার আবেদন জানান।
আবেদনে বলা হয়, আসামিরা মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আছেন মর্মে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের বক্তব্য বিজ্ঞ আদালতে প্রদান করতে ইচ্ছুক। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের জবানবন্দী ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক লিপিবদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।
পরে আসামি সামিয়া ও ওয়াহিদ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে জবানবন্দী দেন। আসামি লিমা ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে জবানবন্দী দেন।
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর আদালত এই আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর ২০ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরো চার দিনের রিমান্ড দেয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।