চট্টগ্রামে জনপ্রিয় হচ্ছে দেশী ভেড়া পালন কোরবানির বাজারে বাড়ছে চাহিদা
Printed Edition
এস এম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)
উপকূল, পাহাড় ও সমতলভূমি ঘেরা দক্ষিণ চট্টগ্রামে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দেশী জাতের ভেড়া পালন। কম খরচ, সহজ পরিচর্যা এবং সুস্বাদু গোশতের কারণে খামারিরা এখন গরু-ছাগলের পাশাপাশি ভেড়া পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। এর প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর বাজারেও। প্রতি বছর ঈদুল আজহায় চট্টগ্রামে ভেড়ার চাহিদা বাড়ছে এবং স্থানীয় উৎপাদন সে চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য মতে, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা আট লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে সাত লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু। এর মধ্যে ভেড়ার সংখ্যা ৪১ হাজার ৪২৩টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আলমগীর হোসেন জানান, দেশী ভেড়ার গোশত অধিক প্রোটিনসমৃদ্ধ, গন্ধহীন ও সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা বাড়ছে। সরকার প্রোটিনের ঘাটতি মোকাবেলা ও দেশী ভেড়ার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলায় খামারিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর সুফল এখন পুরো চট্টগ্রামজুড়ে দেখা যাচ্ছে।
সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন ভেড়া পালন চোখে পড়ার মতো। উপকূলীয় চরাঞ্চল, পাহাড়ের পাদদেশ ও খোলা মাঠে সহজেই ভেড়া চড়ানো যায় বলে এ অঞ্চলে খামারিরা দ্রুত লাভবান হচ্ছেন।
চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ এলাকার খামারি নুরুল কাদের জানান, তার খামারে বর্তমানে প্রায় ১০০টি ভেড়া রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ৫০টি বাচ্চা পাওয়া যায়। দুই থেকে তিন মাস বয়স হলে প্রতিটি ভেড়া ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। কোরবানির সময় দাম আরো বেড়ে যায়। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে দেড় লাখ টাকার বেশি আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
খামারিদের মতে, ভেড়ার খাবার ও চিকিৎসা ব্যয় তুলনামূলক কম। মাঠে চড়িয়ে এবং ঘাস-লতাপাতা খাইয়েই সহজে লালনপালন করা যায়। রোগবালাইও কম হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় ভেড়া পালন শুধু খামারিদের আয় বাড়াচ্ছে না, একই সাথে দেশের প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই পরিকল্পিতভাবে এ খাতের সম্প্রসারণ হলে ভবিষ্যতে ভেড়া পালন গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা হয়ে উঠতে পারে।