নিকলীতে খাল ও সরকারি জায়গা দখলের উচ্ছেদ-অভিযানে ইউএনও
Printed Edition
আলি জামশেদ বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)
নিকলীতে ভূমির অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তি খাল ও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার অভিযানে নেমেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে নিকলীতে নদী-নালা খালবিল দখলদারিত্ব বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দখলদারির প্রমাণ মিলে গত এক বছর সময়ের মধ্যেই। সমালোচনা রয়েছে অতীতে দায়িত্ব থাকাদের নানা কারসাজি নিয়ে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা উচ্ছেদ-অভিযানকে সাধুবাদও জানাতে শুরু করেছেন ইতোমধ্যে। ইউএনও রেহেনা মজুমদার মুক্তির ভাষ্য, এটা তার দায়িত্ব।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলার একটি খালের দখল ও পৃথক একটি জায়গা দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে ইউএনও সরেজমিন গিয়ে পদক্ষেপ নেন গত ২৩ এপ্রিল বিকেলে। সেখানকার খাল দখলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে দেখা গেছে রাজনৈতিক দু’টি পক্ষের মধ্যে অবস্থানকারী স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে। স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবশালীদের ঘিরে দখলদারিত্ব ও শ্রেণী পরিবর্তনের বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে। এতে রাজনৈতিক অসাধু নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মচারীও জড়িত। অপরাধী চক্রের পিছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আঁতাত রেখেই সুবিধা নিচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
জারইতলাতে এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থেকে শুরু করে এক পক্ষের মানববন্ধন অপর পক্ষের বিক্ষোভ মিছিলের দৃশ্যও চোখে পড়ে। তবে স্থানীয় সাধারণের দাবি পানি নামার রাস্তা পরিষ্কার করে দিলে সেখানকার মানুষের উপকার হবে। ফসল হানির ক্ষতি থেকে মুক্তির পাশাপাশি কম খরচে ফসল এ খাল দিয়ে আনা-নেয়া করা যাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী যে খাল দিয়ে এক সময়ে কৃষকদের মালামাল ও জমির ফসল আনা-নেয়া করা হতো সেই খালের অস্তিত্ব এখন বিলীন করে দিয়েছে প্রভাবশালীরা। বিলীন করে দেয়ার জন্যে দায়ী স্থানীয় ভূমির দায়িত্বে থাকা অসাধুরাও। অসাধুদের আঁতাতের কারণেই সহজে সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব খাল ও সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করার জন্যেই মানববন্ধন করেছে বলে একটি পক্ষের দাবি। এলাকাবাসী মিলে মানববন্ধন শেষে বিকেলে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি বরাবরে। তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রতিকার মিলেনি বলে অভিযোগ করেন জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো: জাকির হোসেন।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই রোদার প্ড্ডুা মৌজায় ৭১৮, ৭১৯ ও ৭২৭ দাগে সেখানকার দখল দায়িত্বের অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয় বলে দাবি তোলেন দখলকারীদের অন্যতম একটি প্রবাসী পরিবার। রোদার পুড্ডার এলাকার সরকারি জায়গা দখলকারী ইমরান তাৎক্ষণিক সময়ে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে ১২ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে উল্লেখ করেন রাস্তার হালট ব্যবহার করেছেন মর্মে। খাল বলতে এই দাগে অস্তিত্ব নাই বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করতে দেখা গেছে।
তবে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এ প্রাচীন খালের অস্তিত্ব এখনো আশপাশে রয়েছে। এ খাল ঘিরে কাছাকাছি অবস্থানেই পঁাঁচটি ব্রিজের অস্তিত্ব রয়েছে। জারইতলা ইউনিয়নের অধিকাংশ এবং পার্শ¦বর্তী কটিয়াদী উপজেলার করগঁাঁ ইউনিয়নের মামুদপুর, ভাট্রা এলাকাসহ আশপাশের বেশকিছু এলাকারও পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাষ্কুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুম ছিলো এ গুরুত্বপূর্ণ খাল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে এ খালের অস্তিত্ব আজ বিলীন। বিলিনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার বিভিন্ন ধরনের ফসলি জমি। সেখানকার জীব বৈচিত্র্যের তারতম্যও দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে এ খাল ঘিরে নেপথ্যে অবস্থানকারী রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে রাজনীতিক সুবিধা নেয়ার কথাও উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়; নিকলী-বাজিতপুরে বর্তমান রাজনৈতিক দ্বিধাবিভক্তি কাজ করছে বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেতা-কর্মী আর সক্রিয় নেতা-কর্মীদের মাঝে। যে প্রভাব এ খালের উপরেও পড়েছে।
জারইতলা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ইসহাক রানাকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দুপুরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে নিকলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম বলেন, বর্তমানে নিকলীতে খাল দখল, নদী দখল, চর দখল, ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অচিরেই এর প্রতিকার দরকার।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু এ বিষয়ে বলেন, জারইতলার রোদার পুড্ডাতে খালের অস্তিত্ব না থাকলে কেনো এতোগুলো ব্রিজ হলো। কেনো এসিল্যান্ড মাপজোক করে সেখানে খুঁটি দিলেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির কোনো অসাধু কিংবা বহিষ্কৃত কেউ অসাধু জবর দখলে জড়িত থাকলে তাদের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের নির্দেশ মোতাবেক আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
জারইতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কর্মকর্তা সামসুল আলম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখানে সর্বশেষ নকশায় খালের অস্তিত্ব নাই। তবে সিএস বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি ইমরানসহ অন্যান্যকে হালট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মাটি সরিয়ে নিতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়াও এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।
নিকলী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি জানিয়েছেন ১৫ এপ্রিলের পর ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব নেয়ার পরে জারইতলাতেই একদিনে দুটোই অভিযান পরিচালনা করেন। একটি উচ্ছেদ অপরটি সরকারি খাল দখলমুক্ত করার বিষয়।