নি ত্যো প ন্যা স
ঘটন-অঘটন সুন্দরবন
প্রিন্স আশরাফ
Printed Edition
দুইশ’ দশ.
অদ্ভুত এই প্রকৃতির ক্ষমতা। সিডরের প্রকাণ্ড তাণ্ডব সামলে উঠেছে সুন্দরবন। সবুজ মেলে দিয়ে তাণ্ডবের চিহ্ন মুছে দিয়েছে। চরের গা ছুঁয়ে নদীর মধ্যে দুএকটা কেওড়া গাছ ঝুঁকে এসেছে। ইনতাজ আলী বলল, ‘স্যার, কেওড়া পাড়ব নাই কডা? খেয়ি দেখতি পারেন কেমুন টক?’ বলেই হাল ধরে রেখে হাক দিলো, ‘ফুলি মা, স্যারেরে কডা কেওড়া পেড়ে দে দিন। এট্টা ডাল নিচু হয়ি আছে দেখো। জম্মের কেওড়া ধরিছে।’ ফুলি ছইয়ের ওপাশে বসে কেরোসিনের চুলোতে হরিণের গোশত রান্না করছিল। সে স্টোভ একটু কমিয়ে দিয়ে কোমরে ওড়না বেঁধে উঠে দাঁড়িয়ে ঝুঁকে পড়া ডাল ধরল। তারপর পটাপট কয়েকটা কেওড়া ফল ছিঁড়ে নাভিদের হাতে দিলো। সবুজ রঙা ছোট ছোট সুপারি সাইজের ফল। ফুলি বলল, ‘ধোয়া লাগবে না। মুছে মুখে দিয়ে দেখেন জম্মের টক।’ নাভিদের নৌকা দাঁড়াতে দেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া জুয়েলের নৌকাও একটা কেওড়া গাছের নিচে দাঁড় করিয়ে কেওড়া পাড়তে চেষ্টা করতে লাগল। (চলবে)