ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশীদের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
লিবিয়া থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রিসে পাড়ি দেয়ার চেষ্টার সময় ভূমধ্যসাগরে পথ হারিয়ে খাদ্য ও পানির অভাবে বাংলাদেশীদের মৃত্যুর ঘটনার সাথে একটি সঙ্ঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, এ চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ ও লিবিয়া- দুই দেশেই সক্রিয়। মানবপাচারকারীরা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশী মানুষকে বিপজ্জনক পথে পাঠিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পর তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব মানবপাচারকারী চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন- উভয় ব্যবস্থায় বিচার নিশ্চিত করা হবে।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শামা ওবায়েদ এ সব কথা বলেন। গ্রিসের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, গত ২১ মার্চ অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে একটি নৌকা পূর্ব-লিবিয়ার বন্দর নগরী তবরুক থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটি গ্রিসের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রাপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে খাবার ও পানি ছাড়াই ছয় দিন সমুদ্রে ভাসতে থাকে। এ অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ মানবপাচারকারীর নির্দেশে সাগরে ফেলে দেয়া হয়। এই ঘটনায় গ্রিস কর্তৃপক্ষ ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দু’জন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে।
নৌকাটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছালে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশ, চারজন দক্ষিণ সুদান ও একজন শাদের নাগরিক রয়েছেন। নৌকায় থাকা কমপক্ষে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ জন রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে জীবিতদের সাথে যোগাযোগ করছে। তাদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, নিহত ও উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশু ছিল, যা ঘটনাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এটি প্রমাণ করে, পাচারকারীরা কোনো ধরনের ঝুঁকি বা মানবিক দিক বিবেচনা না করেই মানুষকে বিপজ্জনক যাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল তথ্য থাকলে উদ্ধারকৃতদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। জীবিতদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা, গ্রিস সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, শারীরিক ও আইনি অবস্থা বিবেচনা করার পরই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু এ ঘটনার বিচার নয়, দীর্ঘমেয়াদে মানবপাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বন্ধে আমাদের স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে।