ধানমন্ডিতে ভবন থেকে ফেলে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় একটি বহতল ভবনের নিচ থেকে মোকাব্বর অর্ণব ইসলাম (৩৩) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাবার একটি স্কুল দেখাশোনাসহ অন্যান্য ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। স্বজনদের অভিযোগ, ডিপ্রেশনের দোহাই দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কেউ তাকে হত্যা করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
খালা শাহনাজ বেগম বলেন, গতকাল দুপুরে দিকে আমরা জানতে পারি মোকাব্বরকে ধানমন্ডির ১১ নম্বর রোডের ৩১ নম্বরের নিজ বাড়ি থেকে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ হত্যা করে নিচে লাশ ফেলে গেছে।
তাকে কারা হত্যা করেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোকাব্বর কয়েকদিন যাবৎ ভয় পাচ্ছে বলে আমাদেরকে জানিয়েছিল। তাকে কেউ পেছন থেকে ফলো করছে এমন তথ্যও দিয়েছে। তবে তার সাথে কারো ঝামেলা চলছিল কি না তা বলেনি। কয়েকদিন আগে তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাকে কটূক্তি করে কথা বলেছে। তখন চাচা ওসমান গণি সামনে থাকলেও কিছু বলেননি। এতে সে মনে কষ্ট পেয়েছিল। এরপর গত বৃহস্পতিবার তার চাচা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন। তার চাচার কথায়ও সে কষ্ট পেয়েছিল। বিষয়টি আমাকে জানিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিল। শুক্রবার টেস্ট রিপোর্ট আসার পর সবই স্বাভাবিক ছিল। তার শারীরিক কোনো সমস্যা ছিল না। সে বিয়ে করার জন্য কথাবার্তা বলছিল।
তিনি আরো বলেন, তার বাবার-মায়ের ডিভোর্স হয়েছে। তারপরও মায়ের সাথে তার সম্পর্ক ভালো ছিল। হঠাৎ কী থেকে কী হয়েছে তা জানি না। ১১ তলা থেকে নিচে পড়লে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত থাকার কথা; কিন্তু তেমন কোনো ক্ষত ছিল না। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ভবনের নিচে ফেলে রাখা হতে পারে।
ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাজিব হোসেন জানান, আমরা খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় ধানমন্ডির ওই বাসায় বাড়ির দুই ফ্ল্যাটের মাঝখানের ফাঁকা জায়গার কংক্রিটের উপর থেকে আল মোকাব্বরের লাশ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। জানা গেছে, নিহতের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানার আকুবপুরে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম।