ময়মনসিংহে কলেজের অধ্যক্ষসহ ৫৭ জনই জাল সনদধারী
সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ‘সরাসরি তথ্য যাচাই এবং কিউআর কোড স্ক্যানিং’- এ দুই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়
Printed Edition
মো: সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে শিক্ষাখাতে ভয়াবহ জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬৩ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫৭ জনের সনদই জাল বলে শনাক্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ)।
সরকারি তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ওঠে আসা এ তথ্য ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শুধু জাল সনদই নয়- অবৈধ নিয়োগ, ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ এবং অনুমোদনহীন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অনিয়মেরও প্রমাণ মিলছে। তদন্তের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এমদাদুল হক পলাতক রয়েছেন।
ডিআইএ সূত্র জানায়, সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ‘সরাসরি তথ্য যাচাই এবং কিউআর কোড স্ক্যানিং’- এ দুই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। পরে সন্দেহজনক সনদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে নিশ্চিত করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিআইএ’র এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষকের সনদে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। বিষয়টি এখন বিস্তারিত তদন্তাধীন। যাচাই শেষে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাল সনদ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করা হবে এবং অবৈধভাবে উত্তোলিত সরকারি অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও পৃথক তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হতে পারে। ডিআইএর আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘শুধু শিক্ষক নয়, জাল সনদ তৈরির সাথে জড়িত চক্রকেও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তা নেয়া হতে পারে।’
এ দিকে শিক্ষাবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল তদারকি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং স্থানীয় প্রভাবের কারণে শিক্ষাখাতে এমন জালিয়াতি বিস্তার লাভ করেছে। কঠোর নজরদারি ও দায়ীদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি না হলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হওয়ার আশা নেই।
ডিআইএ সূত্র আরো জানায়, গত ১৮ মাসে সারা দেশে প্রায় ৫০০ জন নতুন জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত হয়েছে। এর আগে প্রথম ধাপে এক হাজার ৭৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া গত এক বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৩৩০ জন এবং মাদরাসা খাতে ১৩৬ জনসহ মোট ৪৬৬ জনের জাল সনদ শনাক্ত হয়েছে।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। যাচাই শেষে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’