গজারিয়ায় ৭ বস্তা পরিযায়ী পাখি উদ্ধার, সেনাকর্মকর্তাসহ ৬ জনকে জরিমানা
Printed Edition
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বিপুলসংখ্যক পরিযায়ী পাখি শিকারের ঘটনায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাখি শিকারে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায় স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) আ স ম. হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া (৮১), আবরার উদ্দিন আহমেদ (৭০), হাজী ওসমান আলী (৭৭), মাজহারুল হক কোরেশী (৭০), আব্দুল্লাহ নূর (৭২) ও আরিক আহমেদ (২৭)। অপরাধ স্বীকার ও বয়স বিবেচনায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা এবং অন্য পাঁচজনকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
প্রশাসন জানায়, তাদের কাছ থেকে ৩টি শটগান, ১টি এয়ারগান ও ৬৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা প্রাইভেটকারে ঢাকা থেকে এসে ট্রলারে করে মেঘনা নদী ও আশপাশের চরাঞ্চলে পাখি শিকারে নামেন। দিন শেষে ফেরার সময় তাদের কাছে প্রায় সাত বস্তা পাখি দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী এবং মাথাভাঙ্গা গ্রামের ঈদগাহ এলাকায় তাদের আটকে রাখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদিনে বিপুলসংখ্যক পাখি নিধনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, এভাবে নির্বিচারে শিকার চলতে থাকলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।