লক্কড়ঝক্কড় বাস ও বাড়তি ভাড়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
ডিএমপি কমিশনারের হুঁশিয়ারি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদযাত্রায় রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত নির্বিঘœ করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিকব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর পাশাপাশি ঈদকে কেন্দ্র করে লক্কড়ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামলে ও বাড়তি ভাড়া নিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো: সারওয়ার। গতকাল দুপুরে রাজধানীর বৃহত্তর বাস টার্মিনাল গাবতলীতে ঈদযাত্রা নির্বিঘেœ ও চাঁদামুক্ত করার লক্ষ্যে মালিক-শ্রমিক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবহন মালিক নেতারা। তবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কাজ করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ম্যাজিস্ট্রেটদের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ডিএমপি কমিশনার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, কোনোভাবেই লক্কড়ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামানো যাবে না। কারণ একটি বাস বিকল হলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বাসের ছাদে যাত্রী নেয়া, অতিরিক্ত গতি এবং অসুস্থ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাস টার্মিনালে হেল্পডেস্ক চালু রাখা হবে এবং সেখানে বাসের ভাড়া তালিকা ও সময়সূচি টাঙিয়ে রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া নিরাপত্তার বিষয়ে ঈদকে কেন্দ্র করে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন এলাকায় প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা জোরদারে সাদা পোশাকের পুলিশ, ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াট টিম ও ডগ স্কোয়াডও বিভিন্ন টার্মিনালে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে আইন প্রয়োগে ম্যাজিস্ট্রেট টিমও মাঠে থাকবে। এ ছাড়া ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল সীমিত রাখা হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক মহাসড়কে না নামানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘœ যাত্রা নিশ্চিত করাই সবার প্রধান লক্ষ্য।সভায় পরিবহন নেতারা অভিযোগ করেন, টার্মিনালের ভেতর শৃঙ্খলা থাকলেও সাভার, নবীনগর ও চন্দ্রার মতো পয়েন্টগুলো থেকে যাত্রী তোলার সময় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এসব জায়গায় মফস্বল থেকে আসা বাসগুলো ৫০০ টাকার ভাড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। এই অনিয়ম রুখতে সঠিক তদন্তের প্রয়োজন। এ ছাড়া ঈদের সময় টার্মিনালগুলোতে নিয়োগ দেয়া ভোক্তা অধিকারের অনেক ম্যাজিস্ট্রেটের ভাড়ার চার্ট সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। সারা বছর মালিকরা সরকারি হারের চেয়ে কম বা ডিসকাউন্টে যাত্রী পরিবহন করলেও ঈদের সময় বিআরটিএ নির্ধারিত সঠিক ভাড়া নিতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটরা সেটিকে ‘অতিরিক্ত ভাড়া’ হিসেবে গণ্য করে মামলা দেয়। এই অনিয়ম বন্ধ করতে মন্ত্রণালয় থেকে ম্যাজিস্ট্রেটদের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়াও শহর এলাকার ফিটনেসবিহীন সিটি সার্ভিস বাসগুলো ঈদের সময় চুক্তিতে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরিবহন নেতারা। এসব গাড়ির চালকদের দীর্ঘ পথের অভিজ্ঞতা নেই, যেখানে ৮-১০ ঘণ্টা চালনার অভিজ্ঞতা দরকার, সেখানে তারা মাত্র ২-৩ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়েই রাস্তায় নামছেন। এসব বন্ধ করতে হবে।