লালমনিরহাটে নন-ইউরিয়া সার সঙ্কট কৃষি বিভাগের দাবি ‘কৃত্রিম সঙ্কট’
Printed Edition
আসাদুল ইসলাম সবুজ লালমনিরহাট
লালমনিরহাটে নন-ইউরিয়া সার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। টিএসপি, ডিএপি ও ফসফেটের সংকটে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। আবার কেউ কেউ বেশি দামে খুচরা বাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে কৃষি বিভাগ দাবি করছে এটি ‘কৃত্রিম সঙ্কট’।
জানা গেছে, বোরো ধান, পাট, ভুট্টা চাষ মৌসুমে লালমনিরহাট সদর উপজেলা, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় ইউরিয়া সারের তেমন সঙ্কট না থাকলেও নন-ইউরিয়া সার, বিশেষ করে টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও ডিএপির (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।
ধান, পাট, ভুট্টা গাছের শিকড় মজবুত করা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং ফলন বাড়াতে টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সারের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বাজারে এসব সারের সঙ্কটের কারণে কৃষকদের উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে তুলছে। কৃষকরা ডিলারদের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। অনেকে খালি হাতেই ফিরে আসতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বেশি দামে খুচরা বাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম (৫০) বলেন, সরকারি নির্ধারিত দরে প্রতি কেজি টিএসপি ২৭ টাকা এবং ডিএপি ২১ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও, খুচরা বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা ডিলারের কাছ থেকে চাহিদামতো সার পাই না। বাকি সার বেশি দামে খুচরা দোকান থেকেই কিনতে হয়। তাও সব সময় পাওয়া যায় না।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগরের তেলীপাড়া গ্রামের কৃষক আতোয়ার রহমান (৪০) বলেন, আমরা ডিলারদের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছি না। নানান অজুহাতে ডিলাররা সারের দাম বেশি নিচ্ছেন। আবাদ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারে গিয়ে প্রতি কেজিতে ৮-১০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে।
সার ডিলাররা জানান, তারা চাহিদার থেকে অনেক কম সার বরাদ্দ পাচ্ছেন। ফলে ধান, পাট ও ভুট্টা মৌসুমে কৃষকদের সারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শায়খুল আরিফিন বলেন, চাহিদার থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম সার বরাদ্দ পাওয়া যায়। কিছু অসাধু ডিলার অধিক লাভের আশায় কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেন। তা ছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার ব্যবহার করাও সঙ্কটের আরেকটি কারণ। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।