কমিটি ভেঙে দেয়া সহজ নয় : আকবর

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন আবারো আলোচনার কেন্দ্রে। দেশের বাইরে অবস্থান করছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়াতে। ফিরবেন ঈদের পর। দেশ ছাড়ার আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ঈদুল ফিতরের পর দেশে ফিরবেন। তবে বিসিবির অন্য পরিচালকদের কাছে তার সফর ও অনুপস্থিতি নিয়ে খুব স্পষ্ট বার্তা না যাওয়ায় প্রশাসনিক মহলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ দিকে এই সময়েই নতুন করে আলোচনায় এসেছে সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাথে যুক্ত কয়েকজন সংগঠক সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাদের দাবি, সর্বশেষ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি এবং এতে নীতিগত প্রশ্ন রয়েছে। তাই নির্বাচন প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। এই উদ্যোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ কয়েকদিন আগেই তামিম ইকবাল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে তিনি বিসিবির নির্বাচনে অংশ নেয়ার কিংবা সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে আগ্রহী। দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘ দিন নেতৃত্ব দেয়া এই তারকার এমন ঘোষণা অনেকের কাছে বিস্ময়েরও কারণ হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন প্রজন্মের আগমনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এর পেছনে রয়েছে প্রশাসনিক অসন্তোষ।

অন্য দিকে বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর এই প্রসঙ্গে ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। তার মতে, বাইরে থেকে বিষয়টি যত সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। বিসিবি একটি নির্বাচিত কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয় এবং সেই কমিটি ভেঙে দেয়া এতটা সহজ নয়। আইনি ও সাংগঠনিক নানা প্রক্রিয়া রয়েছে, যা অনুসরণ না করে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

তবে তিনি একটি বিষয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। যারা নির্বাচনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা সরাসরি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছেন। অর্থাৎ তারা গণমাধ্যমে অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার পথ বেছে নেননি। মূল ধারার সংবাদপত্রে এ বিষয়ে খুব বেশি মন্তব্য না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়াকে তিনি তুলনামূলক দায়িত্বশীল আচরণ হিসেবেই দেখছেন।

তবুও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন। বিসিবির ভেতরের একটি অংশ মনে করছে, নির্বাচন নিয়ে এই নতুন আলোচনা মূলত প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। তাদের ধারণা, আগের মতো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় কিছু গোষ্ঠী এখন নানা অভিযোগ তুলছে এবং নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। ফলে ক্রিকেট প্রশাসনের ভেতরে আস্থার সঙ্কটও ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বর্তমান সভাপতির বৈধতা। বিসিবির ভেতরের একটি অংশ বলছে, আইনগত দিক থেকে বর্তমান কাঠামোই এখন কার্যকর রয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ীই সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেটি অবশ্যই আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই হতে হবে। এখানে কি মধু আছে যে উঠেপড়ে লেগেছে। আরেকদিক ভাবলে, যারা বিসিবির পুষ্টি সংগ্রহ করতে চাইছে, আমি মনে হয় তাদের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছি। যে কারণে আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, এমনকি বোর্ডকেও।

বাংলাদেশের ক্রিকেট দীর্ঘ দিন ধরেই মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রশাসনিক আলোচনার মধ্যেও ঘুরপাক খায়। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য সবকিছু মিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। এখন দেখার বিষয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই অভিযোগকে কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং বিসিবির ভেতরে চলমান টানাপড়েন শেষ পর্যন্ত কোন পথে গড়ায়। কারণ শেষ পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটের স্বার্থই হওয়া উচিত সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।