শিলাবৃষ্টির কবলে রাজধানীর ঈদবাজার

Printed Edition
3rd-4
শিলাবৃষ্টির কবলে রাজধানীর ঈদবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজান ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর ফুটপাথগুলোতে ছিল উৎসবের আমেজ। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যার পর আকস্মিক শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে সেই আমেজ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় ঘণ্টার এই অঝোর বৃষ্টিতে রাজধানীর জুরাইন, পল্টন, মতিঝিল ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেমন- বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তেমনি কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষের পোহাতে হয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ঈদবাজারের প্রধান ভরসা ফুটপাথ হওয়ায় এই ক্ষতি আরো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সপরিবারে কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু দুপুরের পর আকাশ মেঘলা হতে শুরু করে এবং ইফতারের ঠিক পরেই শুরু হয় তাণ্ডব। বড় বড় শিলার আঘাতে ফুটপাথের অস্থায়ী দোকানগুলোর প্লাস্টিক ও বাঁশের ছাউনি ভেঙে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় অনেক জায়গায় মুহূর্তেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়, যার ফলে ফুটপাথে সাজিয়ে রাখা জুতা, কাপড় ও কসমেটিকস পানিতে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়।

এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রস্তুতির কোনো সুযোগই পাননি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। জমানো পুঁজি ও ঋণের টাকায় কেনা মালামাল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে তারা এখন দিশেহারা।

জুরাইনের ফল ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, শুক্রবারের শিলাবৃষ্টিতে আমাদের অধিকাংশ ফল ব্যবসায়ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা যারা দ্রুত পলিথিন দিয়ে ছাউনি তৈরি করতে পেরেছি, তাদের মাল কিছুটা রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু যারা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারেননি, তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। শিলার আঘাতে আপেল, মাল্টার মতো দামি ফলের গায়ে দাগ পড়ে গেছে, যা এখন অর্ধেক দামেও বিক্রি করা কঠিন হবে।

ফুটপথে কাপড় ব্যবসায়ী শাওন বলেন, দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হওয়ায় কিছু কাপড়চোপড় ভিজে গেছে, তবে মালের খুব বড় ক্ষতি হয়নি। মূল সমস্যা হলো সময় নিয়ে।

ঈদের মৌসুম চলায় ইফতারের পর আমাদের কেনাবেচার মূল সময় থাকে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে আমরা দোকানই খুলতে পারিনি। এই সময়টুকু আমাদের জন্য সারা বছরের আয়ের উৎস। সাধারণ ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমাদের ব্যবসা ভালো চলে। কিন্তু ছুটির দিনে বৃষ্টি নামায় ক্রেতাদের আনাগোনা একেবারেই কমে যায়। বৃষ্টির পর মাঠ ভেজা থাকায় ক্রেতারা আর আসতে চাননি। অন্য দিকে বৃষ্টির কারণে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারাও পড়েন চরম বিপত্তিতে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে যারা কেনাকাটা করতে এসেছিলেন, তাদের অবস্থা ছিল সবচেয়ে করুণ। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে অনেক পরিবারকেই দোকানের ঝাপের নিচে কিংবা সরু ছাউনিতে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

কাঁটাবন নিবাসী ভুক্তভোগী ক্রেতা আক্ষেপ করে জানান, সপরিবারে কেনাকাটা করতে এসে শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ি। পর্যাপ্ত ছাউনির অভাবে সন্তানদের নিয়ে ভিজে একাকার হয়েছি। কেনাকাটার আর কোনো উপায় ছিল না, সব মুড নষ্ট হয়ে গেছে। ফিরে যাওয়ার সময় রিকশাচালকরা ২০০ টাকা ভাড়া দাবি করে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিনগুণ বেশি। এক দিকে বৃষ্টিতে ভেজা শরীর, অন্য দিকে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়ার জুলুম- চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছি।