ইউক্রেন ইস্যু ফেলে রাখার সুযোগ নেই : জেলেনস্কি
Printed Edition
সিএনএন
ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি পর্যন্ত ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য অপো করা একটি ‘বড় ঝুঁকি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে সিএনএনের সাথে এক বিশেষ সাাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।
জেলেনস্কি বলেন, ইরান সঙ্ঘাতের কারণে বর্তমানে বিশ্বের নজর রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে সরে গেছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বর্তমানে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চললেও ইরানের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের তেমন কোনো সুযোগ তিনি দেখছেন না। ইউক্রেন ইস্যুটিকে ‘একটু পরে দেখা যাবে’ বলে ফেলে রাখার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি সাাৎকারে উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি একটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একই মধ্যস্থতাকারী দল দুটি সঙ্ঘাতের বিষয় পরিচালনা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ একই সাথে ইরান ও ইউক্রেন উভয় সঙ্কটের আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছেন।
জেলেনস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের যুদ্ধের দিকে বেশি মনোযোগী হলেও ইউক্রেনের পরিস্থিতি ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ইউক্রেন ইস্যুটিকে ‘একটু পরে দেখা যাবে’ এমন তালিকায় ফেলার কোনো সুযোগ নেই। ইউক্রেন ইতোমধ্যে এক বিশাল ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই উভয় সঙ্কটকে সমান্তরালভাবে মোকাবেলা করার পথ খুঁজে বের করতে হবে। সাাৎকারে জেলেনস্কি আরো জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি ইউক্রেনের রণেেত্রও পড়ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্র সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি নির্দিষ্ট করে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইলের কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন মতার সীমাবদ্ধতার কারণে ইউক্রেন বর্তমানে চাহিদা মতো পর্যাপ্ত মিসাইল পাচ্ছে না। এটি রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার েেত্র ইউক্রেনকে বেশ চাপে ফেলছে।
এ দিকে, হাঙ্গেরির বাধার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবশেষে ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর একটি বিশাল ঋণ অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তকে ইউক্রেনের ‘টিকে থাকা এবং বেঁচে থাকার’ প্রশ্ন হিসেবে অভিহিত করেছেন জেলেনস্কি। দীর্ঘ প্রতীতি এই অর্থ ছাড়ের পেছনে বড় বাধা ছিলেন হাঙ্গেরির বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান। তবে গত সপ্তাহের নির্বাচনে ওরবানের বিশাল পরাজয়ের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ইতোমধ্যে ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে দ্রুজবা পাইপলাইনে রুশ তেলের প্রবাহ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন। জেলেনস্কি আপে করে বলেন, প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে ইউক্রেন তাদের নিজস্ব উৎপাদন মতা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি ড্রোন ইন্টারসেপ্টরের কথা উল্লেখ করে জানান, ইউক্রেনের দৈনিক ২,০০০ ইউনিট তৈরির সমতা থাকলেও বর্তমানে তহবিলের অভাবে মাত্র ১,০০০ ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং দেশ রার জন্য এই অর্থ দ্রুত হাতে পাওয়া এখন তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি সাাৎকারে মন্তব্য করেন।