কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা

ছাত্র আন্দোলনের নেতাসহ আহত ২০

আ ফ ম নুরুল কাদের, কুষ্টিয়া
Printed Edition
back-3
ছাত্র আন্দোলনের নেতাসহ আহত ২০

কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো শহরজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

এ দিকে সাংগঠনিক শৃংখলা ভঙ্গ, নীতি বহির্ভূত এবং ষড়যন্ত্রমূলক কাজে জড়িত হওয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আর হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল বিকেলে স্থানীয় শহীদ চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

জানা গেছে, গত রোববার (১৬ মার্চ) ইফতারের পর জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শহরের সরকারি কলেজ মাঠের পাশে অবস্থিত শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি পাঠাগারের সামনে বসেছিলেন। এ সময় একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতে তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তখন সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ জন আহত হন। তাদের দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। তারা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় নাগরিক কমিটির জেলা সদস্য সুলতান মারুফ তালহা, আলী আহসান মুজাহিদ, সুলাইমান হোসেন, হৃদয়, ইমন, ইব্রাহিম, কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক জুবায়ের আহসান, সরকারি কলেজের সদস্যসচিব আফ্রিদি, আলভী ও আয়াস।

নাগরিক কমিটির সদস্য সুলতান মারুফ তালহা জানান, আমরা ইফতার ও নামাজ শেষে আবরার স্মৃতি পাঠাগারের সামনে বসেছিলাম। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বহিষ্কৃৃৃত বিপুল, আলমাস, আয়াসের নেতৃত্বে শতাধিক দেশীয় অস্ত্রধারী আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে আমিসহ ২০ নেতাকর্মী আহত হন। পরে আমাদের ছেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর গভীর রাত পর্যন্ত কুষ্টিয়া হাসপাতাল চত্বরে পুলিশের উপস্থিতিতেই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হাসপাতাল এবং আশপাশের এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমিসহ আরো অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। রাতেই খবর পেয়ে মডেল থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা কলেজ মাঠ ও হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।

এ দিকে গত ১৫ মার্চ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সাংগঠনিক শৃংখলা ভঙ্গ, নীতিবহির্ভূত ও ষড়যন্ত্রমূলক কাজে জড়িত হওয়ায় ৪ জনের সদস্য পদ বাতিলসহ সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- জেলা যুগ্ম সচিব মুখলেসুর রহমান, সদস্য সুমন আহমেদ, সদর উপজেলা যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম মুবাশি^র মাহমুদ ও যুগ্ম সদস্য সচিব তালহা জুবায়ের নাবিল। সোমবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।