খ্রিষ্টানদের বড়দিন উদযাপিত

Printed Edition
bangla-2
খাগড়াছড়ির একটি গির্জায় প্রার্থনার দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সারা দেশে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন গতকাল উদযাপিত হয়। বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও শান্তি কামনায় গির্জাগুলোতে ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠান হয়। এ সময় খ্রিষ্টান নারী-পুরুষ ও শিশুরা তাদের পাপ মোচনের লক্ষ্যে বিশেষ প্রার্থনা করেন। এ ছাড়াও ধর্মীয় নানা অর্চনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়।

রংপুর ব্যুরো জানায়, নানা আয়োজনে রংপুর বিভাগের ৪৬টি চার্চে পালন হয়েছে বড়দিন। নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে রংপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে কেক কেটে বড়দিনের উদ্বোধন করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী। এ সময় ডিসি মোহাম্মদ এনামুল আহসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর আঞ্চলিক ব্যাপ্টিস্ট চার্চ প্রধান লেবারেল সফোরিও বৈরাগী জানান, বিভাগের ৪৬টি চার্চে শান্তিপূর্ণ এবং উৎসব মুখর পরিবেশে পালন করা হচ্ছে বড়দিন। স্থিতিশীল বেদাভেদমুক্ত বাংলাদেশের পাশাপাশি মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার আহ্বান জানান আমন্ত্রিতরা।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, সারা দেশের মতো খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় উৎসব মুখর পরিবেশে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উদযাপন করা হচ্ছে। গির্জায় গির্জায় চলছে আনুষ্ঠানিকতা। চার্চের পাশাপাশি বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সাজানো হয়েছে বাড়ি-ঘর। গতকাল ২৫ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি সদরের খাগড়াপুর, মিলনপুর, আপার পেরাছড়া, গাছবান, চেলজছড়া চার্চসহ প্রায় দেড় শতাধিক গির্জা, ক্যাথলিক ও ব্যাপ্টিস্ট চার্চে বড়দিন উদযাপন হয়। এ উপলক্ষে চার্চ প্রাঙ্গণ আলোকসজ্জা ও রঙিন সাজে সজ্জিত করা হয়। সকাল থেকে চার্চ এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বড়দিনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি একে অপরের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা জানান, তারা এবার খুব আনন্দ ও উৎসব মুখর পরিবেশে বড় দিন উদযাপন করছেন। এ উপলক্ষে দেশ জাতি তথা বিশ্ব শান্তি মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনাসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। খাগড়াপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পালক হেমঙ্কর ত্রিপুরা বলেন, বড়দিন আমাদের জন্য ভালোবাসা, ক্ষমা ও মানবতার শিক্ষা বহন করে। এই দিনে আমরা সবাই যেন পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হই এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলি এটাই আমাদের কামনা।

ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, মধুপুর গড়াঞ্চলে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় উৎসব বড়দিন জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে। মধুপুর গড় এলাকার জলছত্র খ্রিষ্ট দেহ ধর্মপল্লী ও পীরগাছা সেন্টপৌল ধর্ম পল্লী, উত্তর মমিনপুরসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে কেক কাটা হয়। শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী নারী-পুরুষরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কীর্তন পরিবেশন করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রত্যেক ধর্মপল্লী ও উপাসনালয়ে গির্জা করে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। পরে গ্রামে গ্রামে নানা খেলাধুলা, বিয়ে, শ্রদ্ধাসহ নানা আয়োজনে তারা মেতে উঠে। খ্রিষ্টানদের ধর্মপল্লী, উপাসনালয় ও বাড়িঘর সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। এ ছাড়াও ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার সময় জলছত্র খ্রিষ্ট দেহ ধর্মপল্লী চার্চে এলাকার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ প্রার্থনায় যোগ দেন।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালী জেলায় উৎসব মুখর পরিবেশ ও গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপিত হয়। যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন খ্রিষ্টান পল্লী ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের খ্রিষ্টান পল্লী, পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের খ্রিষ্টান পল্লী এবং দুমকি উপজেলার খ্রিষ্টান পল্লীর গির্জাগুলোতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ৯টা থেকে গির্জাগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাইবেল পাঠ, যিশু খ্রিষ্টের জীবনাদর্শ, ত্যাগ ও মানবকল্যাণমূলক বাণী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রার্থনা শেষে ভক্তরা একে অপরের সাথে বড়দিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও শান্তি কামনায় এবং অতীতের সব পাপ মোচনের আশায় যিশু খ্রিষ্টের নিকট বিশেষ প্রার্থনা করেন ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টানরা।