মার্কিন স্থল অভিযানের সমুচিত জবাবের হুমকি ইরানের

Printed Edition
first-2
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়েছে মার্কিন ই-৩ এয়ারবাস : দ্যা টেলিগ্রাম

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

  • জরুরি বৈঠকে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসর

  • হরমুজে নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির নতুন শর্ত ইরানের

  • যুদ্ধের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো মানুষের ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ

  • ইরানের হামলায় ইসরাইলে রাসায়নিক কারখানা, সৌদিতে বিমান ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এক ভয়াবহ ও চূড়ান্ত পরিণতির দিকে মোড় নিয়েছে। একদিকে পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহের জন্য বড় ধরনের স্থল অভিযানের গোপন ছক কষছে বলে খবর পাওয়া গেছে, যার বিপরীতে ইরান তার মাটিতে মার্কিন সেনাদের ‘পুড়িয়ে মারার’ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুদ্ধ থামাতে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ সচল করতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসেছেন।

রণক্ষেত্রে ইসরাইলি বাহিনী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অস্ত্র কারখানা ও গুদামগুলোতে জোরালো বিমান হামলা চালাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও হিজবুল্লাহ একযোগে ইসরাইলের শতাধিক শহরে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তেল আবিব, জেরুসালেমসহ বড় শহরগুলো প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। যুদ্ধের আঁচ লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতেও; গত ২৪ ঘণ্টায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দু’টি অ্যালুমিনিয়াম কারখানা এবং কুয়েত বিমানবন্দরের রাডারব্যবস্থায় ইরানের বিধ্বংসী হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওমানের সালালাহ বন্দর এবং সৌদি আরবের আকাশসীমাও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।

এ দিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধের নতুন শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও জাহাজ চলাচলে টোল আদায়ের দাবি তুলেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার কৌশল হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিলেও নিজ দেশে তিনি চরম চাপের মুখে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ‘নো কিংস’ শিরোনামে হাজার হাজার মানুষ যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছে।

স্থল অভিযান ও ইরানের হুঁশিয়ারি : আলজাজিরা ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদফতর পেন্টাগন ইরানে স্থল অভিযানের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করলেও সেনারা সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় অবস্থান করবেন তা স্পষ্ট করেনি। স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অতর্কিত হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

এ দিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ মার্কিন এই দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আমেরিকা একদিকে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে গোপনে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না এবং যেকোনো স্থল অভিযানের দাঁতভাঙা জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত।’

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ঘালিবাফ বলেন, ‘শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার বার্তা পাঠাচ্ছে আর গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। আমাদের বীর যোদ্ধারা মার্কিন সেনাদের মাটিতে নামার জন্য অপেক্ষা করছে, যাতে তাদের আগুনে পুড়িয়ে দেয়া যায়।’

ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতা : যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজতে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান গতকাল রোববার এক বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তার তুর্কিয়ে ও মিসরীয় সমকক্ষদের সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি সামরিক পর্যায়েও যোগাযোগ চলছে; পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। তুরস্কের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেয়া।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ইতঃপূর্বে ১৫ দফার যে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছিল, ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব কিছু প্রস্তাব পেশ করেছে। এ দিকে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের সাথে একটি বৈঠকে যোগ দিতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নতুন শর্ত : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান যুদ্ধ বন্ধে এবার নতুন এক শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। সিএনএনের খবর অনুসারে, তেহরান এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চাইছে। একই সাথে এই নৌপথ ব্যবহার করা জাহাজগুলো থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে। টোল থেকে বছরে কয়েক শ ’কোটি ডলার আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরেই ইরান এ পথকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘিœত হওয়ায় বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে প্রণালীটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চাইছে ইরান।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করা যে কত সহজ ও সস্তা, তা ইরান এবার ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে। আয়ের নতুন উৎস হিসেবে তারা এখন একে কাজে লাগাতে চাচ্ছে।’ তবে ইরানের এমন পরিকল্পনা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই টোল আদায় শুরু করতে পারে, তবে তাদের মাসিক আয় মিসরের সুয়েজ খালকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিএনএনের এক হিসাব বলছে, প্রতিদিন এ পথ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার ফি নিতে পারলে ইরানের মাসে আয় হবে ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি।

ইসরাইলের জোরালো বিমান হামলা : আলোচনা চললেও রণক্ষেত্রে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা থামেনি। গতকাল রোববার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের ‘হার্টে’ অবস্থিত অস্ত্র উৎপাদনকারী অবকাঠামো ও কয়েক ডজন গুদাম লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর বন্দর-এ-খামিরে একটি জেটিতে হামলায় পাঁচজন নিহত এবং দু’টি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় তিন সাংবাদিক ও একজন লেবানিজ সেনা নিহত হয়েছেন। তেহরানে অবস্থিত কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-অ্যারাবি টিভির ভবনেও ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

ইসরাইলের রাসায়নিক কারখানায় হামলা : এদিকে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের বিরশেবায় নিওত হোভাব শিল্পাঞ্চলের একটি রাসায়নিক কারখানায় আঘাত হেনেছে। ফলে বিপজ্জনক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ আশপাশ বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

নিওত হোভাব শিল্পাঞ্চল ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিরশেবা থেকে মাত্র চার মাইল দূরে অবস্থিত। সেখানকার জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, এ হামলায় এখন পর্যন্ত এক ব্যক্তির আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নেওত হোভাব এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে এবং জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে, কারণ ওই কারখানায় বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে।

ফসল সুরক্ষাসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আদামা জানিয়েছে, ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের নেওত হোভাব শিল্প এলাকায় যে কারখানায় আগে হামলা হয়েছে, সেটিই তাদের মাখতেশিম প্ল্যান্ট।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, কারখানাটি ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র অথবা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চীনা মালিকানাধীন সিনজেনটা গ্রুপের অংশ আদামা আরো জানায়, কারখানার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

একযোগে ইরান-হিজবুল্লাহর হামলা : ইরান ও হিজবুল্লাহ একযোগে ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে। এ সময় ইসরাইলের ১০০টির ও বেশি শহরে সতর্কসঙ্কেত বেজে উঠে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা চালানোর সময় ইরান থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ফলে একসাথে ইসরাইলের ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্কসঙ্কেত বেজে ওঠে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। তবে হাইফা উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আলজাজিরা অপর এক খবরে বলেছে, ইরান থেকে ছোড়া একঝাঁক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চল জুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তার পর বৃহত্তর তেল আবিব, জেরুসালেম এবং আশদোদসহ বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজানো হয়। সংবাদমাধ্যটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, একের পর এক বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করার পরপরই নাগরিকরা নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যান।

সৌদিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিমান ধ্বংস : যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে হামলা চালিয়ে বিমানটি ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। বিশেষ রাডার থাকা বিমানটি আগাম সতর্কতা দেয়া ও আকাশ নিয়ন্ত্রণের কাজ করত। মার্কিনিদের কাছে এ বিমান মাত্র ১৬টি ছিল।

গত শুক্রবার সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। এ সময় এ বিমানটিকে টার্গেট করা হয়। ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১২ সেনাও আহত হন। এ ছাড়া একই হামলায় কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমানও ধ্বংস হয়।

অনলাইনে প্রকাশিত নতুন ফুটেজে দেখা গেছে, বোয়িং ই-৩ সেনট্রি মডেলের বিমানটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। কয়েকজন আরব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একাধিক রিফুয়েলিং বিমানের সাথে এই বিশেষ বিমানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই বিমান উন্নত প্রযুক্তির রাডার ব্যবহার করে কয়েক শ’ কিলোমিটার দূরে থাকা যুদ্ধবিমান ও মিসাইল শনাক্ত করতে পারে। এতে করে আকাশ থেকে সেনা কমান্ডারদের এটি যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক চিত্র দিতে পারে।

সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ই-৩ সেন্ট্রি ফ্লিটের বিমান সহজে রিপ্লেস করা যায় না। আর যদিও রিপ্লেস করতে হয় তাহলে আনতে হবে ই-৭ ওয়েজটেইল বিমান। যেগুলোর একেকটির দাম ৭০০ মিলিয়ন ডলার।

বৃহত্তম ২ অ্যালুমিনিয়াম কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত : মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় দফায় দফায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনজীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গতকাল শনিবার সবচেয়ে বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। আবুধাবিতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ (ইজিএ) জানিয়েছে, তাদের প্রধান কারখানায় ভয়াবহ হামলা হয়েছে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

একই সময়ে হামলার শিকার হয়েছে বাহরাইনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’। সেখানেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। কুয়েতেও বড় হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডারব্যবস্থা লক্ষ্য করে চালানো এ হামলাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গতকাল ওমানের দক্ষিণে সালালাহ বন্দরে দু’টি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এই হামলায় একজন বিদেশী কর্মী আহত হয়েছেন। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। এরই মধ্যে হামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। এ দিকে সৌদি আরবের আকাশসীমায় কয়েক ঘণ্টায় ১০টি ড্রোন রুখে দেয়া হয়েছে বলে রোববার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ‘নো কিংস’ শিরোনামে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত হাজার হাজার আমেরিকান রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্টের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা ও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন রণতরীকে ধাওয়া : ইরানি নৌবাহিনীর একজন কমান্ডার দাবি করেছেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত পানিসীমায় ইরান এখন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার ভয়ে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ইরানি পানিসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ওই কমান্ডার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন বাহিনী তাদের মিসাইলের আওতায় আসা মাত্রই কঠোর প্রতিশোধ নেয়া হবে। বর্তমানে তারা কেবল মার্কিন সেনাদের রেঞ্জের মধ্যে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

হাউছিদের অংশগ্রহণ ও বৈশ্বিক নৌঝুঁকি : ইয়েমেনের ইরানপন্থী হাউছি বিদ্রোহীরা ইসরাইলের ওপর সরাসরি হামলা শুরু করায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আগে থেকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হাউছিদের এই প্রবেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরো বাড়িয়ে দেবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।