আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আজ আবারো তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
- মানবতাবিরোধী অপরাধ
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তিনি তার জবানবন্দী পেশ করেন। তবে গতকাল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ না হওয়ায় আজ সোমবার তৃতীয় দিনের মতো আবারো আদালতে সাক্ষ্য দেবেন তিনি।
ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে উপস্থিত হয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলামত সংগ্রহের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে এই সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্য পেশ করা হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলায় ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দিচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন। তদন্ত চলাকালে তিনি কোথায় থেকে, কবে এবং কিভাবে আলামত জব্দ করেছেন, তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর তার জবানবন্দী শুরু হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী শেষে উপস্থিত ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত রয়েছেন- প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, সাইমুম রেজা তালুকদার ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান। এর আগে ১০ ডিসেম্বর তদন্ত সংস্থার রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো: কামরুল হোসেন এবং বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জবানবন্দী দেন। ৯ ডিসেম্বর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিস্তারিত বর্ণনার পাশাপাশি সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে রাখার ‘সেফ হাউজ’ এবং কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছে অভিযোগ করেন।
মামলায় এ পর্যন্ত ২৫ জনের জবানবন্দী নেয়া হয়েছে এবং মোট সাক্ষী রয়েছেন ৬২ জন। বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। সাবেক ভিসিসহ বাকি ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক।
গত ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়ার পর ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহে তিন হত্যা : তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় বাড়ল
এ দিকে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আরো এক মাস বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আগামী ২৮ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন। প্যানেলের নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: মঞ্জুরুল বাছিদ এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। তিনি মামলার অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে তদন্ত শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২৭ নভেম্বর শুনানিতে আজকের দিনটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত ছিল।
শুনানি উপলক্ষে রোববার সকালে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় মামলার গ্রেফতারকৃত ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদের ছেলে তানজির আহমেদ রাজিব, গৌরীপুর থানার তৎকালীন এসআই শফিকুল আলম, এএসআই দেলোয়ার হোসাইন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহাবুল আলম, জোসেফ উদ্দিন জজ ও আতাউর রহমান ফকির ওরফে ফারুক আহাম্মদ। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন গৌরীপুর থানার সামনে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় বিপ্লব হাসান, মো: নূরে আলম সিদ্দিকী ও মো: জুবায়ের নামে তিনজন নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।