তেল সঙ্কটে সেচে ধস, জেগে ওঠেনি কাপ্তাই হ্রদের জমি

রাঙ্গামাটিতে বোরো আবাদ অনিশ্চিত

Printed Edition

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটিতে চলতি বোরো মৌসুমে একযোগে একাধিক সঙ্কটে পড়েছেন কৃষকরা। কাপ্তাই হ্রদের পানি আশানুরূপ না কমায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে গেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট। ফলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে বোরো আবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় পলিযুক্ত উর্বর জমি জেগে ওঠে। এসব জমিতে কৃষকরা সাধারণত কম খরচে বোরো ধান, তরমুজ ও বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করে ভালো ফলন পেয়ে থাকেন; কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি ভিন্ন। হ্রদের পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে না কমায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি জেগে ওঠেনি। ফলে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে গেছে।

বিশেষ করে বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, লংগদু, নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় হ্রদের বুক চিরে জেগে ওঠা জমিতে আবাদ অনেকটাই সীমিত। অনেক কৃষক এবার চাষই করতে পারেননি। আবার কেউ কেউ কম জমিতে চাষ করতে বাধ্য হয়েছেন।

এ দিকে জমির সঙ্কটের পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট। সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, হ্রদপাড়ের এলাকায় বোরো ধানের চাষ শুরু হলেও তা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম। কোথাও কোথাও দেরিতে আবাদ শুরু হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, আগাম বর্ষা শুরু হলে দেরিতে করা আবাদ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রতি বছরের মতো এবারো অনেক কৃষক উন্নত উফশী জাতের ধান রোপণ করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভালো ফলনের আশা অনেকটাই কমে গেছে বলে তারা জানান। কৃষকরা বলছেন, বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যার কথা জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো: মনিরুজ্জামান বলেন, হ্রদে জেগে ওঠা জমিতে প্রতি বছর ভালো ফলন হয়। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জমি সঙ্কুচিত হওয়া, জ্বালানি সঙ্কটে সেচ ব্যাহত হওয়া এবং দেরিতে আবাদ শুরু- এই তিন সঙ্কটে রাঙ্গামাটির বোরো চাষ এবার চাপের মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এবারের মৌসুমে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংম্লিষ্টরা।