পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ ইসলামী আন্দোলন

Printed Edition

এইচ এম হুমায়ুন কবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

সাগরপাড়ের জনপদ পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের হাটবাজার ও চায়ের দোকানগুলো রীতিমতো নির্বাচনী প্রচারণায় রূপ নিয়েছে। কে জিতবে, কার ভোট বেশি- এমন নানা হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাধারণ মানুষ। ভোটের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী উৎসব ও উত্তেজনা।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ মো: মোস্তাফিজুর রহমান, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা: জহির উদ্দিন আহমেদ এবং গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো: রবিউল হাসান।

তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াইটা গড়ে উঠেছে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটের সমীকরণ বদলে যাওয়ায় ভাসমান ভোটারদের বড় একটি অংশ কোন দিকে যাবে- সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে বিজয়ের চূড়ান্ত ফলাফল।

ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকেও পটুয়াখালী-৪ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলাপাড়া ও চারদিকে সাগরকূল নদীবেষ্টিত রাঙ্গাবালী নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর পায়রা, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। ফলে এই আসনের উন্নয়ন শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় অর্থনীতির সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিএনপির এই প্রার্থী দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় সংগঠন গড়ে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের বাইরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও তিনি সাড়া ফেলতে পেরেছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

অন্য দিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজয় তার নিশ্চিত। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে নয়, ইসলামী আদর্শ, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন করছি। মানুষ পরিবর্তন চায়, আমি সেই পরিবর্তনের প্রতিনিধি হতে চাই।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ১৪ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৮৩৬ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫ হাজার ৬৪৫ জন। রাঙ্গাবালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৯৪ হাজার ৮৬৪ জন, পুরুষ ৪৭ হাজার ৬৬১ ও নারী ৪৭ হাজার ২০৩ জন।

ধানের শীষের প্রার্থী এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে, যার মালিকানা থাকবে পরিবারের প্রধান নারী সদস্যের হাতে। কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও কীটনাশক ন্যায্যমূল্যে নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বিএনপির বিকল্প নেই।

সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে পটুয়াখালী-৪ আসনে এবারের নির্বাচন হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক ও উত্তেজনাপূর্ণ। বিএনপির শক্ত অবস্থানের বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ, এই দ্বন্দ্বই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ আসন।