বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে বিভিন্ন স্থানে ৪৫ জন আহত

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ভোলার বোরহানউদ্দিন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এবং যশোরের ঝিকরগাছায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী সংঘর্ষে দু’পক্ষের ৪৫ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, ভোলার বোরহানউদ্দিনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে জামায়াত ইসলামীর একটি প্রচারণা দল চৌকিদার বাড়ির সামনে স্লোগান দেয়। এতে ওই বাড়ির বিএনপি কর্মী মো: আইয়ুব বাড়ির সামনে স্লোগান দিতে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নিলে প্রায় আধা ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২৭ জন আহত হয়।

আহতরা হলেন জামায়াত কর্মী মো: ফয়জুল্লাহ, মো: ইমন, মো: শাহ আলম, মো: রাতুলসহ ১২ জন। বিএনপি কর্মী মো: আইয়ুব, শিমু আকতার, কহেনুর আক্তার, মো: শামীমসহ ১৫ জন।

আহত বিএনপি কর্মী মো: আইয়ুব জানান, তিনি সকালে মাঠে কাজ করার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় জামায়াত কর্মীরা বাড়িতে ঢুকতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়িতে কোনো পুরুষ নেই, তাই এখন যাওয়ার দরকার নেই, আপনারা পরে আসবেন। এতে জামায়াত কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে বাড়িতে জোর করে ঢুকতে চান। বাধা দিলে তার ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পরে তিনি চিৎকার দিলে পাশের বাড়ির বিএনপি কর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আজম জানান, জামায়াতের হামলায় তাদের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

ভোলা-২ আসনে জামায়াতের প্রধান নির্বাচন পরিচালক মাকছুদুর রহমান জানান, ওই চৌকিদার বাড়িতে নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের ১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমানের সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বাগি¦তণ্ডার জেরে জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী, উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল ও কাজী রাসেল। তাৎক্ষণিক আহত অন্যদের নাম জানা যায়নি। আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের দেখে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক কথা বলতে থাকেন। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমাদের অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিজান খান ও মোবারক চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের নম্বরটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষে ফেরার পথে আক্রমণ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতারা এগিয়ে এলে জামায়াত-শিবির আবার তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমি ও আমার গাড়িচালক আহত হই।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত থানা পুলিশের একটি টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পরিস্থতি শান্ত রয়েছে।

যশোরের ঝিকরগাছায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১০

নয়া দিগন্ত ডেস্ক জানান, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিকেলে পৌর শহরে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াতের নারী সদস্যরা।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দাবি, শনিবার দুপুরে মহিলা জামায়াতের ১০-১২ জন কর্মী নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে প্রচারণা চালাতে যান। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। খবর পেয়ে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে বাগি¦তণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর এসএস পাইপ, বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে হামলা করেন। এতে তাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক মুস্তাকিম হাসান অভিযোগ করে বলেন, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে আগে থেকেই বিএনপির কিছু নেতাকর্মী জোট পাকানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় সেখানে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়।

বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, জামায়াত কর্মীরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের মতো পোশাক পরে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলা ঠেকাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা প্রতিরোধ করতে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

যশোর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নী জানান, জামায়াত কর্মীরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের মতো পোশাক পরে প্রস্তুতি নিয়ে এসে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। তারাই ঘটনার সূত্রপাত করেছে।

ঝিকরগাছা থানার ওসি দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।