পানছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা

Printed Edition

পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আধিপত্য বিস্তারে আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (গণতান্ত্রিক)-এর এক শীর্ষ নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের মানিক্যপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নীতিদত্ত চাকমা (৫৮) ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর পানছড়ি উপজেলা সংগঠক।

স্থানীয় দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার মানিক্যপাড়ায় একটি চায়ের দোকানে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের সংগঠক নীতিদত্ত চাকমা পাহাড়ের প্রধান উৎসব বৈসাবি মেলা সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় তিনটি মোটরসাইকেলে এসে নীতিদত্ত চাকমাকে গুলি করে রাবার ড্যাম এলাকার দিকে পালিয়ে যায়। বুকে ও পিঠে গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত নীতিদত্ত চাকমাকে সংগঠনের কর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে পানছড়ি হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি শহরের পার্ক সাইড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই বেলা পৌনে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নীতিদত্ত চাকমা পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের বর্ন চাকমার ছেলে। বর্তমানে তিনি একই উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের সূতকর্মা পাড়ায় বসবাস করতেন। এ দিকে ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অমর জ্যোতি চাকমা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফকে (প্রসীত গ্রুপ) দায়ী করেন। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অপর দিকে এ দাবি অস্বীকার করে ইউপিডিএফের (প্রসীত গ্রুপ) সংগঠক অংগ্য মারমা বলেন, তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজ দলীয় অস্ত্রধারীর গুলিতে নীতিদত্ত চাকমা নিহত হয়েছেন। এতে ইউপিডিএফের (প্রসীত গ্রুপ) কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, ঘটনা জানার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে নিরাপত্তাবাহিনী পৌঁছায়। এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। লাশ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রয়েছে। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।